প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ১৩ বছরের এক কিশোরী। সেই মামলায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে আসামি শুকুর আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই মামলায় প্রেমিক সেন্টুসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিন আসামির ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে আদালত। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের চূড়ান্ত আপিল খারিজ করে গতকাল বুধবার এই রায় দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন : বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
দণ্ডিতরা সবাই ১২ বছর ধরে কনডেম সেলে রয়েছেন। এর মধ্যে সাজা হ্রাস পাওয়ায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে কনডেম সেল থেকে সাধারণ সেলে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। এই তিন আসামি হলো : লালনগর গ্রামের পিজাব উদ্দিনের ছেলে নুরুদ্দিন সেন্টু, আবু তালেবের ছেলে আজানুর রহমান ও সিরাজুল প্রামাণিকের ছেলে মামুন হোসেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই কনডেম সেলে থাকাবস্থায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল গনির ছেলে কামু ওরফে কামরুল কারাগারেই মারা যান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ রাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে টেলিভিশন দেখে বাড়ি ফেরার পথে লালনগর ধরমগাড়ি মাঠের একটি তামাকখেতে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে আসামিরা। পরদিন ভিকটিমের বাবা পাঁচ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। ঐ মামলায় ২০০৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি খয়ের আলীর ছেলে শুকুর আলীসহ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। ২০১৪ সালে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আসামিকের আপিল খারিজ করে ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় বহাল রাখে। এর বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও রাগীব রউফ চৌধুরী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ শুনানি করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসামিদের আপিল খারিজ করে এ রায় দেয়।
