ইয়াবার রুটে আসছে আইস ব্যবহূত হচ্ছে সিসা বারে

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২১, ০০:১১

ইয়াবার বিভিন্ন রুট দিয়েই মিয়ানমার থেকে দেশে প্রবেশ করছে ভয়ংকর মাদক আইস (ক্রিস্টাল ম্যাথ)। পরে সেগুলো হাতবদল হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে অভিজাত শ্রেণির বখাটে তরুণদের কাছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী-ধানমন্ডির বিভিন্ন সিসা বারেও ব্যবহূত হচ্ছে এই মাদক। দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ধনির দুলালদেরই আকৃষ্ট করছে। এছাড়া আইস ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল হওয়ায় অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করা প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ৫০০ গ্রাম আইস ও ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের ৬৩ হাজার ইয়াবাসহ একটি চক্রকে ডিবির গুলশান বিভাগ গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানান তিনি। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির আরেকটি অভিযানে ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার ডিবির গুলশান বিভাগের অভিযানে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আইস ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় সাত জনকে। তাদের নাম—নাজিম উদ্দিন, আব্বাস উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, শিউলি আক্তার, কোহিনুর বেগম, সানজিত দাস ও হোসেন আলী। একই দিন ডিবি মিরপুর বিভাগের অভিযানে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারকৃত দুজনের নাম রাশিদা বেগম ও মৌসুমী আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আইস চক্রের সদস্যরা জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে অনেক দিন ধরে তাদের মাদক ব্যবসায় মন্দা ছিল। লকডাউন শেষে তারা আইস ও ইয়াবা ট্যাবলেট কক্সবাজার থেকে কিনে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে। মোংলা বন্দর অভিমুখী এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বহন করা একটি বড় ট্রাকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে মাদক কুমিল্লায় নিয়ে আসে তারা। এরপর প্রাইভেট কারে এগুলো ঢাকায় নিয়ে আসে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঐ সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির ঐ কর্মকর্তা আরো জানান, ঢাকা মহানগরের গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিসহ অভিজাত এলাকায় উঠতি বয়সের বখাটে তরুণ-তরুণীদের কাছে এই মাদক বিক্রি করা হয়। দুই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত আছে। এসব মাদকের মূল ব্যবসায়ী কারা, সেটি খুঁজে বের করা হবে।