পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বৈষয়িক বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে, সংগত কারণে এতে বৈষম্য বাড়ছে। তবে, বাস্তব বিবেচনায় এটা অনুসরণ না করার কোনো বিকল্প নেই। এ বৈষম্য খুব সহসা কমবে, এমন সম্ভাবনা কম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখা : রিমেমবারেন্স বাই হিজ কনটেমপোরারিজ’ শীর্ষক এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি শহরের সঙ্গে গ্রামের বৈষম্য কমাতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এ কাজগুলোই বর্তমানে বাস্তবায়ন করছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সঞ্চালনায় এতে আরো স্মৃতিচারণ করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, পরিকল্পনা কমিশনের প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার। বঙ্গবন্ধু কমিউনিস্ট ছিলেন না, তবে তিনি সমতায় বিশ্বাস করতেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবন দিয়ে গেলেন যে বাংলাদেশ গড়তে, সেটি এখনো বিনির্মাণ হয়নি। তিনি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। ধনী-গরিব, শহর-গ্রামের ব্যবধান কমাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখনো আমরা সমাজের বৈষম্য দূর করতে পারিনি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু দুটি লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেটা হলো—দেশ স্বাধীনের মাধ্যমে রাজনৈতিক মুক্তি এবং অর্থনৈতিক মুক্তি। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে তিনি মুক্তির কথা বলেছিলেন। এরপর বঙ্গবন্ধু যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন তখন তাকে হত্যা করা হয়েছে। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে হলে সবার আগে তাকে জানতে হবে। আর বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে তার নীতি-আদর্শ এবং দর্শন উপলব্ধি করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি বামপন্থিদের সম্মান দিতেন। অধ্যাপক নুরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও বার্তায় বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বপ্ন দেখতেন।
