এত আলোচিত-সমালোচিত হওয়ার পরও দেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এর কি কোনো শেষ নেই? এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।
সড়ক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত না হওয়াটা সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির মূল কারণ হলেও অবৈধ যানবাহন ও অদক্ষ চালকের সংখ্যাধিক্যতা, আইন না মানার প্রবণতা, সড়কের অপ্রশস্ততা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সিংহভাগ সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাও মর্মান্তিক সব সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদক্ষেপ ছাড়া কেবল কাগুজে আইনে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ সচেতনতাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
মাওসুমা নওশীন
সদর, বরিশাল
সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অদক্ষ গাড়িচালকের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দেশের অনেক সড়ক সংস্কারের অভাবে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের গাড়িচালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র খেয়াল করলে দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ট্রাফিক নীতিমালা অনুসরণ না করে গাড়ি চালানোর জন্য দুর্ঘটনার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বড় বড় সেমিনার আয়োজন করেও এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বড় বড় বিক্ষোভ হলেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়নি। সড়কে ভয়াবহ মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে অদক্ষ গাড়িচালকদের সংশ্লিষ্টতায়। সরকারি-বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত দক্ষতাসম্পন্ন গাড়িচালক যদি তৈরি করা যায় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব হবে।
এস এম হূদয় রহমান
গৌরীপুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা
মূলত আইনের কঠোর প্রয়োগের ব্যর্থতাতেই সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে বাড়ছে মর্মান্তিক সব সড়ক দুর্ঘটনা। পাশাপাশি সড়কের প্রশস্ততা বাড়িয়ে সড়কের ওপর হতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে না পারলে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমানো যাবে না।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
বান্দরবান সদর, বান্দরবান পাবর্ত্য জেলা
নিয়মিত আলোচনা-সমালোচনার পরও দেশ জুড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবেই বেড়ে চলছে। মূল কারণগুলো হলো—নিবন্ধনহীন যানবাহন, অদক্ষ ও অপেশাদার চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ইত্যাদি। এছাড়া গতির অসুস্থ প্রতিযোগিতা, উঠতি কিশোর-তরুণদের মোটরসাইকেল চালনা এবং পথচারীদের অসচেতনতাও অন্যতম কারণ। সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টানতে সড়ক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ সতর্কতার বিকল্প নেই।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ি, চট্টগ্রাম
সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা, চালক ও অনেকক্ষেত্রে পথচারীদের আইন না মানার প্রবণতা এবং প্রণীত আইন কার্যকরে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতাই লাগামহীন সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির মূল কারণ। এছাড়া, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের আধিক্য, অপেশাদার ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞ চালকদের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের গতির অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং হেলমেট ব্যবহারে অনীহার কারণে সড়কে লম্বা হচ্ছে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্ববরণকারীর পরিসংখ্যান। পরিস্থিতি এমনই নাজুক যে, সর্বাত্মক লকডাউনেও সড়ক দুর্ঘটনা থেমে থাকেনি। নিরাপদ সড়কের জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতের পাশাপাশি সড়ক প্রশস্ত করে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালক ও পথচারীদের সচেতনতার বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সড়ক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।
আবু ফারুক
বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান
অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও পঙ্গুত্ববরণের সারি ক্রমশ লম্বা হচ্ছে। নেপথ্যের কারণগুলো সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাছে সুস্পষ্ট হলেও দুর্ঘটনার হার কমছে না। অসংখ্য ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন চালক, ট্রাফিক আইন না মানা এবং ফুটপাত ও সড়কের ওপর ভ্রাম্যমাণ দোকান ইত্যাদি কারণে সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। তাই নিরাপদ সড়কের জন্য সড়ক আইনের যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য।
আবুল কাশেম
সিকদার ভিলা, বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম
সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার বিষয়টি শুধু সংখ্যার বিচারে বিবেচনা করলেই চলে না। প্রতিটি প্রাণই অমূল্য সম্পদ। আর যারা আহত হয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারায়, কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবারের বোঝায় পরিণত হয়, তাদের জীবনে যেন অন্ধকার নেমে আসে। নানা কারণে সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, পণ্যবাহী যানবাহনে অতিরিক্ত মালবোঝাই ও বিপজ্জনকভাবে যাত্রী পরিবহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা, সর্বোপরি মানুষের অসচেতনতা। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে যদি কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করা যায়, তাহলে সড়কের দুর্ঘটনা বহুলাংশে কমানো সম্ভব।
মো. জিল্লুর রহমান
গ্লোরিয়া, ঢাকা
সরকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে লকডাউন খুলে দিয়েছে। পরিবহনের সংশ্লিষ্ট ড্রাইভার ও অন্য কর্মচারীরা আইনশৃঙ্খলার কোনো তোয়াক্কা না করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে সাধারণ পরিবহন পরিচালনা করছে। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো আগ্রহ নেই ও ড্রাইভারদের সড়ক আইন মানার কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পরিবহন মালিকরা অদক্ষ চালক এবং প্রায় অকেজো পরিবহন নিয়ে রাস্তায় নামছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হলে শ্রমিক ও মালিকদের পরিবহন আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে না। বর্তমানে করোনার পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় রোগী নিয়ে পরিবহন না পেয়ে এবং দক্ষ চালক না পেয়ে তারা নিজেদের পরিবহনে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টির প্রতি আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দূর করা। যে কোনো মূল্যে সড়ক দুর্ঘটনারোধ নিশ্চিত করতে হবে।
খন্দকার মাসুদ উজ জামান
নাজিমুদ্দিন রোড, ঢাকা
নানা রকম নিয়ম-কানুন ও আইন কার্যকর হওয়ার পরেও প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনার খবর আমরা পাচ্ছি। সড়কের নানা রকম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে পড়ে ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অদক্ষ চালক, সচেতনতার অভাবসহ অন্য আরো কিছু সমস্যার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। তাই মহাসড়কের গর্ত ভরাটের পাশাপাশি স্থায়ী সংস্কার ও দক্ষ চালকের প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন নিয়ম-কানুন ও আইনশৃঙ্খলা মেনে চলা।
সাইফুল ইসলাম হাওলাদার
তোপখানা রোড, ঢাকা
আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে অনেক মিটিং-মিছিল, আলোচনা থেকে শুরু করে অনেক কর্মসূচি পালন হয়েছে। এছাড়া সড়কের আইন পাশ হয়েছে ২০১৮ তে। সেখানে নানা নিয়মকানুনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোথায় সেই আইন মান্য করার রীতি? তাই আমাদের এসব বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মো. মামুন
বংশাল, ঢাকা
সড়ক দুর্ঘটনা মানুষের আশা, বেঁচে থাকার স্বপ্ন এক মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। এর লাগাম অবশ্যই টেনে ধরতে হবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে চালককে দক্ষ হতে হবে, অবৈধ লাইসেন্স বাতিল করতে হবে, বেপরোয়া কিংবা দ্রুত গাড়ি চালনার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, ওভারটেক বন্ধ করতে হবে, চলন্ত গাড়িতে চালককে মোবাইলে কথা বলা যাবে না, অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো যাবে না, চালক, সহকারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। সর্বপরি সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের পদক্ষেপ জোরদার করা জরুরি।
মো. ইলিয়াছ হোসেন
খটখটিয়া, রংপুর
নানা কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তার মধ্যে চালকের অদক্ষতা, প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো, বিরতিহীন চলা, চালকের অমনোযোগিতা, মোবাইল ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো ইত্যাদি।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
গ্রাম থেকে রাজধানী—সব জায়গায় নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনায় নারী শিশু বৃদ্ধ বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। দেশের অধিকাংশ রাস্তা ভাঙা গর্ত দিয়ে পরিপূর্ণ। রাস্তার ট্রাফিক-ব্যবস্থা খুব দুর্বল।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
গুলশান, ঢাকা
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ—ফিটনেস বিহীন গাড়ি, চালকের অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন অগ্রাহ্য করা এবং সড়ক ও মহাসড়কগুলোর দুরবস্থা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার কোনোই বিকল্প নেই। আর এজন্য বাংলাদেশ সরকারকেই সবচাইতে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি দেশের প্রতিটি জনগণের জীবনমানের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সে দেশের সরকারেরই।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর
সড়ক দুর্ঘটনা একটি দুঃখজনক অধ্যায়। কত পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের কারণ। দক্ষ চালক এবং সবার সচেতনতাই রোধ করতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা।
সালেহা আফরিন বেবী
শিবগঞ্জ, সিলেট
সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের দেশে। প্রধান কারণের মধ্যে অদক্ষ চালক, নিম্নমানের লুব্রিকেটিং অয়েল, ব্রেক ফ্লুলিড, পার্টস ব্যবহার, অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকার ও রাস্তার বাঁক, ট্রাফিক সিগনাল অমান্য, যত্রতত্র রাস্তার মধ্যে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো, ওভার লোড, ওভার স্পিড, মাদক সেবন করে ড্রাইভিং, কোনো নিয়মনীতি না মানা, মেগা শহরে অটোরিকশা-পাবলিক পরিবহনের গাড়ি প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর, ঢাকা
