এলিভাস

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২১, ২১:২৩

সায়েন্টিস্ট টিংফু কয়েকদিন ধরে তার এলিয়েন বন্ধু নিনিতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন; আজ নিনিতার সাথে সাংকেতিক কথা হলো। সায়েন্টিস্ট টিংফু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন; তার তৈরি সুপারসনিক কম্পিউটার দিয়ে আজ নিনিতার সসারে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। সারা পৃথিবী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। লক্ষ লক্ষ লোক মারা যাচ্ছে। সারা পৃথিবীর সেরা সেরা বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো সেভাবে সাফল্য আসেনি, বিভিন্ন ট্রায়াল চলছে। এই মুহূর্তে একটা মিরাকেল দরকার; পৃথিবীর মানুষকে বাঁচাতে হবে, বিজ্ঞানের দ্বারা সবই সম্ভব। এই মহাবিশ্বে তো মানুষ একা নয়, মানুষের চাইতে উন্নত মস্তিষ্কের প্রাণী এই মহাবিশ্বে রয়েছে, তা সব বিজ্ঞানীরাই কমবেশি জানেন। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির একটি গ্রহ হলো এলিভাস, এই গ্রহ পৃথিবী থেকে বিশ হাজার আলোকবর্ষ দূরে। নিনিতা এলিভাস গ্রহের একজন পঞ্চম স্তরের সায়েন্টিস্ট, সেখানকার সব চাইতে বড় সায়েন্টিস্ট হলো ষষ্ঠ স্তরের সায়েন্টিস্ট। বাংলাদেশের ঠিক পাঁচ কিলোমিটার উপরে কয়েক কিলোমিটার ব্যাসের একটি সসার অবস্থান করছে, রাত তখন নিশুতি। সায়েন্টিস্ট টিংফু তার প্রিয় চেয়ারে বসে, কমিনিউকেশন মডিউলের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছেন। করোনা ভাইরাস নির্মূলে এলিয়েনরা ছুটে এসেছে পৃথিবীর মানুষের জন্য, ব্যাপারটা অদ্ভুত। এই খবর এখন কোনো সায়েন্টিস্ট ও ডাক্তার জানে না। নিনিতার কাছে একটা ভাইরাস আছে, যা করোনা ভাইরাসকে মানবদেহের ভেতর কয়েক ঘণ্টায় মেরে ফেলতে পারে। এখন এই ভাইরাসটির একটি ট্রায়াল দরকার করোনা রোগীর উপর। নিনিতা একটা ছোট সসারে করে সায়েন্টিস্ট টিংফুর সাথে দেখা করে এলিভাস নামক ভাইরাস ভর্তি টেস্টটিউব দিল; টেস্টটিউবটি কাচের নয়, কিন্তু স্বচ্ছ ও নমনীয়। এখন ভাইরোলজি ল্যাবে এই ভাইরাসটিকে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে সংখ্যায় বৃদ্ধি করতে হবে। সায়েন্টিস্ট টিংফু বিখ্যাত ডাক্তার জামান মাহামুদের সাথে গোপন বৈঠকে বসলেন। আগামী পরশু দিন হাসপাতালের আইসিইউতে যে সকল করোনা রোগী ভর্তি আছেন তাদের উপর এই ভাইরাসের পরীক্ষা চালানো হবে। এলিভাস ভাইরাসটি করোনা ভাইরাসের মতো সাংঘাতিকভাবে সংক্রমিত হয়, কিন্তু মানবদেহের কোনো ক্ষতি করে না। হাসপাতালের আইসিইউ রুমে টেস্টটিউবের মুখ খুলে রাখা হলো এবং রোগীরা যেন এই ভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হলো। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রোগীদের কাকতালীয়ভাবে উন্নতি দেখা গেল। চব্বিশ ঘণ্টায় রোগীরা পুরোপুরি সুস্থ। ড. জামান মাহমুদ বললেন, এই ভাইরাস বোধ হয় সাংঘাতিকভাবে রোগীর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। রাতারাতি সব হাসপাতালে এই ভাইরাসের টেস্টটিউব পাঠানো হলো এবং রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেল তাদের শরীরে আর করোনা ভাইরাস নেই। সায়েন্টিস্ট টিংফু একটা আইডিয়া বের করলেন, প্রতিটি শহরে একটি এলিভাস চেম্বার তৈরি করবেন, যে চেম্বারে করোনা রোগী বা যাদের সাধারণ জ্বর আছে তারা প্রবেশ করে কয়েক মিনিট থাকবে এবং এই ভাইরাস দ্বারা তারা সংক্রমিত হবে; তাহলে সাধারণ রোগীরাও ভালো হয়ে যাবে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশ থেকে করোনা ভাইরাস নির্মূল হবে। এলিভাস নামটি দিয়েছেন সায়েন্টিস্ট টিংফু। এলিয়েনের ‘এলি’ এবং ভাইরাসের ‘ভাস’—এই হলো এলিভাস। এছাড়াও এই মহাজাগতিক ভাইরাসটি এলিভাস নামক গ্রহ থেকে এসেছে। জাতীয় প্রেসক্লাব বিভিন্ন ডাক্তার আর বায়োলজিস্টদের পদভারে মুখরিত, সাংবাদিকরা তো আছেনই। সায়েন্টিস্ট টিংফুর হাতের ডিভাইসে একটা মেসেজ এল, এলিয়েন নিনিতা পাঠিয়েছে। এলিভাস ভাইরাসের কথা যেন কোনোভাবেই সবার সামনে প্রকাশ করা না হয়; কারণ এলিভাস গ্রহের চিফ কমান্ডার নিষেধ করেছেন। নিনিতা ইচ্ছে করলেই ইনভেজিবল হতে পারে; সায়েন্টিস্ট টিংফু বুঝতে পারলেন তার চারপাশে চর্তুথ মাত্রার কেউ অবস্থান করছে। সায়েন্টিস্ট টিংফু সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুধু বললেন—

জনৈক সাংবাদিক : ‘আমরা জানতে চাচ্ছি ভাইরাসটি আপনি কীভাবে পেলেন?’

সায়েন্টিস্ট টিংফু : ‘এটা না হয় রহস্যই থাক, কারণ গবেষকদের অনেক কিছু গবেষণার স্বার্থে গোপন রাখতে হয়। কোনো এক সময় হয়তো জানতে পারবেন। তবে এই মহামারি থেকে আমাদের অনেক শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। পৃথিবী বদলে গেছে, প্রকৃতি বদলে গেছে, সারাবিশ্বে দূষণ নেই বললেই চলে।’

হঠাত্ ঢাকার আকাশে কালো মেঘ করে এল; অদ্ভুত সে মেঘের গর্জন। প্রচণ্ড শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে, কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘটনাটি সবাইকে হতবাক করে দিল। সায়েন্টিস্ট টিংফু বুঝতে পারলেন ঘটনা কী! একজন তরুণী সাংবাদিক সায়েন্টিস্ট টিংফু মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা অনুমান করতে পারছে; কয়েক মাসের অভ্যাসবশত সায়েন্টিস্ট টিংফু মুখে মাস্ক পরে চোখে কালো চশমা পরলেন। চোখ সব সময় সত্য কথা বলে।