উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে গত কয়েক দিন ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার খাসরাজবাড়ি, নাটুয়ারপাড়া, চরগিরিশ, মনসুরনগর, নিশ্চিন্তপুর ও তেকানী ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে ইতিমধ্যেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মধ্যে পড়েছে আরো অন্তত ১২টি গ্রাম।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের ডিক্রিদোরতা গ্রাম ও জিআরডিপির ৬ নম্বর নৌকা ঘাট পয়েন্টে ব্যাপক আকারে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এই সব এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিলীন হতে চলেছে ফসলের খেত ও নতুন স্থাপন করা বৈদ্যুতিক লাইন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা আশিক, সুরুজ্জামান ও আবুল হোসেন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এসব গ্রাম ও ঘরবাড়ি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। মানুষজন সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
এ ব্যাপারে তেকানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ও নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিন ধরে এই সব এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বাড়ি ও জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, যমুনার অভ্যন্তরীণ চরাঞ্চলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ করার নীতিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। কেননা প্রকৃতিগতভাবে চরাঞ্চলে নদী ভাঙন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার।
