করোনাকালীন লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং দাম ভালো থাকায় দিনাজপুরের চাষিরা লেবু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অসংখ্য বাগান গড়ে উঠেছে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ করা হয়েছে। দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, গত দুই বছর থেকে সারা বিশ্বের ন্যায় দিনাজপুরে করোনায় আক্রান্ত ও শনাক্ত বেড়ে যাওয়ায় চিকিত্সকদের পরামর্শে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ লেবুর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে বাজারে ব্যাপকহারে লেবুর চাহিদা বেড়ে গেছে।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের ফল নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত সহকারী পরিচালক রতন কুমার রায় জানান, লেবু একটি উপকারী ফল। স্বাস্থ্য বিভাগের রোগতত্ত্ব বিভাগ গবেষণা করে কৃষি অধিদপ্তরকে লেবু চাষে আগ্রহী করতে তাগিদ দিয়েছে। এ কারণেই চলতি বছর জেলায় কৃষি অধিদপ্তর থেকে উচ্চ ফলনশীল বারোমাসি সিডলেস ও এলাচি জাতের লেবু চাষ করার ব্যাপারে কৃষকদের আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। এ জাতের লেবুর চারা রোপণের তিন মাস পর থেকেই লেবু ধরতে শুরু করে। পাঁচ মাসের মধ্যেই লেবু সংগ্রহ করা যায়।
এদিকে বারোমাসি সিডলেস ও এলাচি জাতের লেবু চাষ করে সফল সদর উপজেলার চকরামপুর গ্রামের গৌতম চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, কেউ যদি ৪৮ শতাংশ জমিতে লেবু চাষ করেন, তাহলে খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হবে। এছাড়াও লিচু, আম বাগানের চারপাশে ঘেরা বা বেড়া হিসেবে এবং লিচু ও আমগাছের মধ্যখানেও লেবু চাষ করা সম্ভব।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ বলেন, লেবুবাগানের মালিকদের সার্বক্ষণিক সঠিক পরামর্শ দিয়ে আসছি। লেবু চাষ লাভজনক হওয়ায় এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অসংখ্য বাগান গড়ে উঠেছে। অধিক লাভজনক এ লেবু বাড়ির উঠানসহ পতিত জমিতে চাষ করে যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারেন।
