তারেক রহমানসহ ১৫ আসামি পলাতক, কারাগারে ৩৩ জন

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২১, ০১:১৬

বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত ১৮ আসামির মধ্যে ১৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইকবাল হোসেন ওরফে ইকবাল ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে সেলিম। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি র্যাব রাজধানীর দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।                 বর্তমানে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ৩৩ জন রয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ), কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার, কাশিমপুর-১ ও সিলেট কারাগারে। অপর দিকে গত ১৫ আগস্ট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম। আব্দুর রহিম গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের কনডেম সেলে থাকতেন। গত ২৬ জুলাই তার দেহে করোনা শনাক্ত হয়। প্রথমে তাকে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক?্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর তাকে ঢাকা মেডিক?্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।

অপর দিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত রয়েছেন চার জন। তারা হচ্ছেন :মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়া, আব্দুল হারিছ চৌধুরী, বাবু রাতুল আহমেদ ও হানিফ পরিবহনের মালিক আলহাজ মোহাম্মদ হানিফ।

প্রসঙ্গত, সিআইডির কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ মামলার তদন্ত শেষে ৫২ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। দ্রুত ট্রাইব্যুনাল-১ (নাজিমউদ্দিন রোড, ঢাকা) ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামির অন্য মামলায় ফাঁসি হয়েছে। ফলে ৪৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করে আদালত। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জন। আর চার জনকে তিন বছর কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, সাত জনকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পলাতক আসামি

পলাতক আসামিদের ব্যাপারে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা অফিসের প্রধান (এনসিবি) ও পুলিশের সহকারী উপ-মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা হয়। তারা হলেন : শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, তারেক রহমান, আলহাজ মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়া, চৌধুরী আব্দুল হারিছ, বাবু রাতুল আহমেদ, হানিফ আলহাজ মোহাম্মদ। এর মধ্যে ইন্টারপোল কনস্টিটিউশনের আর্টিকেল ২ ও ৩ ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার জন্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের রেড নোটিশ বাতিল হয় ২০১৮ সালের ৪ মে এবং তারেক রহমানের রেড নোটিশ বাতিল হয় ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। ফলে বর্তমানে চার জনের রেড নোটিশ বহাল রয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলহাজ মাওলনা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়ার সম্ভাব্য অবস্থান পাকিস্তান। বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চৌধুরী আব্দুল হারিছের সম্ভাব্য বর্তমান অবস্থান মালয়েশিয়া, ভারত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাবু রাতুল আহমেদের অবস্থান ইতালি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়া আলহাজ মোহাম্মদ হানিফের সম্ভাব্য অবস্থান থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া।

তারেক রহমানের রেড নোটিশ পুনরায় জারির বিষয়ে উপ-মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের রেড নোটিশটি পুনঃজারির নিমিত্তে এনসিবি-ঢাকা থেকে নিয়মিতভাবে আইপিএসজি বরাবর পত্র প্রেরণ সার্বক্ষণিক অব্যাহত রয়েছে।

রেড নোটিশভুক্ত আছেন চার জন

বর্তমানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত আছেন চার জন। তারা হলেন :জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা আলহাজ মোহাম্মদ মাওলানা তাজ উদ্দিন (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত), রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু (এরা দুজন সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুর সহোদর ভাই), খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব আব্দুল হারিছ চৌধুরী ও হানিফ পরিবহনের মালিক আলহাজ মোহাম্মদ  হানিফ (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায় ঘোষণা করেন ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ৪৯ জন আসামির মধ্যে ১৮ জন পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি  আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন পলাতক আসামি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা খান সাঈদ হাসান (ডিএমপি ডিসি দক্ষিণ) ও ওবায়দুর রহমান (ডিএমপি ডিসি পূর্ব)। অপর দিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে ১৪ বছর ধরে ভারতের দিল্লির কারাগারে রয়েছেন হরকাতুল জিহাদের দুই জঙ্গি  যমজ ভাই মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন ও আনিসুল মুরসালিন। ২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিস্ফোরক, পিস্তলসহ ভারতের পুলিশ নয়াদিল্লিতে তাদের গ্রেফতার করে।