মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক
সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
পূর্বে প্রকাশের পর
তড়িত্ প্রবাহ দুই প্রকার। সরাসরি প্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা সমপ্রবাহ (Direct Current) সংক্ষেপে ডিসি। আর দিক পরিবর্তী প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current) সংক্ষেপে এসি।
আমরা বাসায় যে তড়িত্ প্রবাহ ব্যবহার করি এটি কী? অণু জিজ্ঞাসা করল।
এটিই অলটারনেটিং কারেন্ট এসি।
একে অলটারনেটিং কারেন্ট বলা হয় কেন?
আমাদের বাসার সার্কিটে যে প্রবাহ চলে তার অভিমুখ একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবর্তন হতে থাকে। তাই একে পরিবর্তী প্রবাহ বলি। এই প্রবাহ কোনও এক দিকে প্রবাহিত হবার সময় বৃদ্ধি পেয়ে পেয়ে সর্বাধিক হয়। আবার হ্রাস পেয়ে পেয়ে শূন্য হয়। এর গতিপথ পানির তরঙ্গের মতো। এই তরঙ্গকে সাইন তরঙ্গ (Sin Wave) বলা হয়।
আর ডিসি কোনটি? বলল রেখা।
কোনও রোধকের এক প্রান্ত যদি একটি তড়িেকাষের ধনাত্মক প্রান্তে আর অন্য প্রান্ত ঋণাত্মক প্রান্তে যুক্ত করা হয়, তাহলে একটি স্থির মানের তড়িত্ প্রবাহিত হয়। একে একমুখী প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা ডিসি বলা হয়।
আকাশ বলল, কিন্তু আমরা ডিসি রেখে এসি ব্যবহার করি কেন?
নীলকান্তবাবু বললেন, ডিসি তো দূর থেকে ট্রান্সমিট হয় না। এসিকে অনেক দূর থেকে আনা যায়।
অনেক দূর থেকে আনব কেন, নিজের ঘরে রেখে দিয়েই কাজ সারব।
কিন্তু ডিসিতে তো খরচ বেশি, এসিতে খরচ কম। আর তাছাড়া আমাদের ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলো ডিসিতে চলে। যেমন টিভি, কম্পিউটার, চার্জার, ল্যাম্প এগুলো।
আমরা তো এসি সংযোগ দিয়ে চালাই, বলল চন্দ্রা।
হ্যাঁ, আমরা এসিতে সংযোগ দেই, কিন্তু ভিতরে ট্রান্সফরমার আছে, যার সাহায্যে এসি থেকে ডিসিতে পরিণত হয়।
এসি তো স্টোর করে রাখা যায়, বললেন কমলা, আমাদের বাসায় যে আইপিএস আছে তাতে তো স্টোর করে রাখি।
না, এসিকে স্টোর করে রাখা যায় না। আইপিএসেও এসি থেকে ডিসি হয়। এরপর আমরা ব্যবহার করি, বললেন নীলকান্তবাবু। এসি চলে একটা তরঙ্গের মতো। একবার ধনাত্মক একবার ঋণাত্মক। একে আমরা একটা সাইকেল বলি। একটা সাইকেলের সময়কে বলি পর্যায়কাল, এক সেকেন্ডে যত সাইকেল হয় তাকে বলি কম্পাংক।
আমাদের এসির কম্পাংক কত ? আকাশ বলল।
৫০ Hz, মানে এক সেকেন্ডে ৫০ বার পজিটিভ হচ্ছে, আর নিগেটিভ হচ্ছে।
অণু বলল, কোন কারেন্ট বেশি বিপজ্জনক বাবা?
দুটোই বিপজ্জনক, তবে এসি বেশি বিপজ্জনক।
