মিলন রহমান
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি প্রান্তে আইসিটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নেকটার) বগুড়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় সারাদেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে জন্মলগ্ন হতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে আইসিটি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। করোনাকালেও থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা ইতিমধ্যেই নেকটার বগুড়া প্রবেশ করেছে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের (রোবট ও থ্রী-ডি প্রিন্টার) এর প্রশিক্ষণের এক অভিনব যাত্রায়। ১৯৮৩ সালের ১৩ মে নট্রামস্ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৪ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারিভাবে কার্যক্রম শুরু করে এবং শুরুতে এখানে চালু ছিলো বহুভাষী সাঁটলিপি ও টাইপরাইটিং প্রশিক্ষণ। পরবর্তীতে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নট্রামস্ বিলুপ্ত করে ২০০৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি নবরুপে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নেকটার) হিসেবে। নেকটারের নথিসূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিভিন্ন সময়ে ও মেয়াদে এখন পর্যন্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে ৫৩ হাজার ৫’শ ৫৫ জন, যারা প্রত্যেকেই তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে দক্ষতা অর্জন করে আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই শিক্ষার আলো প্রসারিত করছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। নেকটার বগুড়ার উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান জানান, নেকটার থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ১৬ হাজার ৮২ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে ৬ মাস মেয়াদী এ্যাডভান্সড্ সার্টিফিকেট কোর্স অন কম্পিউটার ট্রেনিং। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১২ হাজার ৪’শ ৪২ জন মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা, এসএসসি ভোকেশনাল এবং এইচএসসি বিএম শিক্ষকগণ ৩০ দিন মেয়াদী আইসিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে হাজারো প্রশিক্ষণার্থী গ্রহণ করেছে বিভিন্ন যুগোপযোগী স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স, স্পেশাল বেসিক লার্ণিং কম্পিউটার কোর্স, গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ফান্ডামেন্টাল অব ওয়েব পেজ ডিজাইন কোর্স, ফান্ডামেন্টাল অব আইসিটি, কম্পিউটার এবং অফিস এ্যাপ্লিকেশন কোর্স, সর্টহ্যান্ড প্রশিক্ষণ কোর্স, এ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্স, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি। শুধু সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকরাই নয় নেকটার থেকে আইসিটি শিক্ষায় প্রশিক্ষণ অর্জন করেছেন ২৫ জন জুডিশিয়াল (সাব জজ) কর্মকর্তা, ১১৯ জন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা, বিসিএস (প্রশাসন) এর ২৪২ জন কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ৩৮৭ জন কর্মকর্তা, ১০৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা, ইন-সার্ভিস (আর্মি) প্রশিক্ষণ ৪’শ জন, বিসিএস (হিসাব) ৬০ জন, ইনসেনটিভ ট্রেনিং কোর্স (ফরেনার) ৪১ জন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের ৩০ জন কর্মকর্তাসহ অনেকে যারা প্রত্যেকেই বর্তমানে নেকটার থেকে প্রাপ্ত আইসিটি শিক্ষাকে দেশের কাজে লাগাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শুধু তাই নয় করোনাকালেও থেমে ছিলোনা স্বনামধণ্য এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। ভার্চুয়ালী ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে বিভিন্ন মেয়াদে ২০২০-২১ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত নেকটার বগুড়া থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন ২ হাজার ৯’শ ১২ জন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের অগ্রযাত্রায় নেকটার বগুড়া অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানটিতে সংযোজিত হয়েছে রোবট ব্লুবেরি এবং থ্রিডি প্রিন্টার। রোবট ব্লুবেরি যা তৈরিতে ব্যবহূত হয়েছে রাস্পবেরি পাই, পাইথন প্রোগামিং, ডিসি গিয়ার মটর, স্টেপার মটর, সার্ভো মটর, মটর কন্ট্রোল ড্রাইভার, সোনার সেন্সর, মোশন সেন্সর ইত্যাদি। রোবটটি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, অভ্যর্থনা প্রদান এবং কবিতা আবৃত্তি করতে পারে। এ প্রসঙ্গে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহান আলী বলেন, নেকটার বগুড়ার এই অসামান্য উদ্যোগের মাধ্যমে আইসিটি শিক্ষা বিস্তারে এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। শুরু থেকেই নেকটার তথ্য প্রযুক্তির বিকাশে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন কারণ তিনি নিজেও এই প্রতিষ্ঠানের একজন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন।
