নির্মাণ, অভিনয় ও উপস্থাপনায় দীর্ঘদিন নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন শফিউল আলম বাবু। বর্তমানে একটি চলচ্চিত্রসহ বেশ কয়েকটি নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ার ভাবনা, উপস্থাপনা ও অভিনয়ের নানা দিক নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
দীপঙ্কর দীপনের ‘অন্তর্জাল’ ছবিটির শুটিং করছি। পাশাপাশি ‘মমতাজ মহল’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় এবং উপস্থাপনার কাজ নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। এছাড়া সম্প্রতি আমার পরিচালনায় ‘স্বপ্নদল’, ‘জন্মান্ধ,’ ‘বৈদেশি কন্যা’, ‘মুক্তি’সহ কয়েকটি নাটক প্রচার হয়েছে।
আপনি নির্মাণ, অভিনয়, উপস্থাপনাসহ নানা মাধ্যমে কাজ করছেন। তবু পেশার জায়গা সেই অর্থে থিতু হতে পারলেন না কেন? এটা অস্থিরতা, নাকি সুযোগের অভাবের কারণে?
বিভিন্ন মাধ্যমে পদরচাণা আমার অস্থিরতার কারণে নয়। মূলত সুযোগের অভাবে নানা ধরনের কাজ করতে হচ্ছে। আমি আসলে কাজের জন্য কারো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারি না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাই, যখন দেখি অভিনয় না জানা লোক কাজ পাচ্ছে, অথচ আমরা যারা অভিনয় জানি তারা কাজ পাচ্ছি না!
চরিত্রাভিনেতা হিসেবে অনেকেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সেই জায়গায় আপনার অভিনয় স্বপ্ন কী?
আমি অভিনয়ে কখনোই ‘হিরোইজম’ শব্দে বিশ্বাস করি না। একটি নাটক বা সিনেমায় প্রতিটি চরিত্রেরই নিজেস্ব ভ্যালু আছে। আমি একজন অভিনেতা হিসেবে মানুষের হূদয়ে দাগ কাটতে চাই। যেন আমি না থাকলেও তারা আমাকে মনে রাখেন।
কাজ না জানা অনেককেই উপস্থাপনার চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে উপস্থাপনা শৈল্পিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে মনে করছেন না?
নিশ্চয় উপস্থাপনা সৌন্দর্য হারাচ্ছে। কারণ এখন যে গান গায়, নাচ করে, খেলাধুলা বা অভিনয় করে তাকে এই চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উপস্থাপনা হচ্ছে এমন একটি শিল্প যেখানে নূন্যতম জ্ঞান থাকা দরকার। কিন্তু এখন এমন একজনকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে যিনি একটি স্ক্রিপ্ট দেখে দেখে পড়ে যাচ্ছেন। এটাকে তো উপস্থাপনা বলা যাবে, এটা অনুষ্ঠান ঘোষণা বা সংবাদ পাঠ বলা যায়।
উপস্থাপনায় গ্লামারকে প্রাধান্য দেওয়ায় মেয়ে উপস্থাপকের সংখ্যা বাড়ছে। এতে ছেলেদের সুযোগ কমে যাচ্ছে কি-না?
কাজ করতে পারলে অবশ্যই মেয়েরা কাজ করবে। তবে উপস্থাপক হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে বলবো, সব জায়গা মেয়ে কেন্দ্রিক হয়ে যাওয়া কাম্য নয়। কারণ ছেলেরাও কাজ করার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় তারা অবহেলিত হওয়ার কারণে ছেলে উপস্থাপকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
এখন অনেকেই অভিনয় না শিখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন। এই বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
আমি মনে করি অভিনয় শেখার একমাত্র জায়গা মঞ্চ। এই মাধ্যম থেকে এলে উপস্থাপনা, অভিনয় সব ক্ষেত্রেই ভালো করা সম্ভব। কারণ মঞ্চে, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি থেকে শুরু করে নানা বিষয় শেখানো হয়। কিন্তু এই মাধ্যম থেকে না এসে কেউ অভিনেতা বা তারকা দাবি করলে আমাদের তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
ওটিটি নিয়ে অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন। কিন্তু অল্প দিনেই সিন্ডিকেটের কথা শোনা যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আপনাদের সুযোগ কেমন রয়েছে বলে মনে করেন?
একটা সময় নাটকে বলা হলো স্পন্সর চাহিদা। এরপর বলা হলো এজেন্সির চাহিদা। তারপর এলো ভিউ। কিন্তু ভিউ না চাহিদার ওপর নির্ভর করে একটি ভালো নাটক বা সিনেমা হতে পারে না। যখন ৯০ ভাগ দুর্বলতা থাকে এবং অভিনেতা নির্ভর হয়ে যায় নাটক বা সিনেমা তখন এটা শিল্প থাকে না, বাণিজ্যিক মাধ্যম হয়ে যায়। এমন অবস্থা ওটিটিতে শুরু হলে আমাদের সম্ভাবনার দ্বার বন্ধ হয়ে যাবে।
তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন মাধ্যমটিতে কাজের স্বাধীনতা হারানোর শঙ্কায় আছেন?
শুধু ওটিটি না, সব মাধ্যমেই দর্শকরা এখন একটি ভালো গল্প ও অভিনয় দেখতে চায়। তারপরও ভিউ এবং নির্ধারিত শিল্পী নির্ভরতার কারণে নির্মাতারা নির্মাণ স্বাধীনতা হারাচ্ছেন। তবে প্রযোজক-নির্মাতারা চাইলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।
