সুজানগরে গাজনার বিলে পর্যটকদের ভিড়

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ২১:০৩

সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা

মহামারি করোনার মধ্যেও পর্যটকদের নৌ-ভ্রমণে মুখরিত হয়ে উঠছে সুজানগরের গাজনার বিল। বিশেষ করে শুক্রবার বিকালে শত শত ভ্রমণপিপাসু নারী-পুরুষ পর্যটকরা গাজনার বিলে এসে নৌ-ভ্রমণ করছেন।

গাজনাপাড়ের উলাট গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর বর্ষার মৌসুম এলেই নতুন পানিতে গাজনার বিল থই থই করে। আর বিলে এ পানি থাকে পৌষ মাস পর্যন্ত। বর্ষার শুরু থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ এ সময়ে প্রায় অর্ধশত সবুজ-শ্যামল গ্রামবেষ্টিত গাজনার বিল অপরূপ সৌন্দর্যে রূপ নেয়। সে কারণে এ সময় দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ পর্যটক ছুটে আসেন গাজনার বিল ভ্রমণে।

দেখা গেছে, পর্যটকদের নৌ-ভ্রমণের জন্য বিলের খয়রান ব্রিজ পয়েন্ট, চরবোয়ালিয়া পয়েন্ট এবং বোনকোলা ব্রিজ পয়েন্টে বাণিজ্যিকভাবে রাখা হয়েছে ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা, ডিঙি নৌকা ও স্পিডবোট। তাছাড়া পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে স্থানীয়ভাবে বিলের খয়রান ব্রিজ পয়েন্টে রাখা হয় বিশাল বাইচের নৌকা। পর্যটকরা এসব বাইচের নৌকায়ও বিল ভ্রমণ করে থাকেন। তবে বাইচের নৌকায় সাধারণত স্থানীয় পর্যটকরা বেশি ভ্রমণ করেন।

বিলপাড়ের খয়রান গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান জানান, প্রতিদিন কমবেশি পর্যটককে গাজনার বিলে নৌ-ভ্রমণ করতে দেখা যায়। তবে প্রতি শুক্রবার বিকালে পর্যটকদের নৌ-ভ্রমণে গাজনার বিল মুখরিত হয়ে ওঠে। এদিন শত শত পর্যটক তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে গাজনার বিলে নৌ-ভ্রমণ করেন। পর্যটকরা বিকাল থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত বিলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে নৌ-ভ্রমণ করেন। এদের মধ্যে অনেক পর্যটক আবার বিলপাড়ে বনভোজনও করে থাকেন। বিলে নৌ-ভ্রমণে আসা পর্যটকরা জানান, বিলটি ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিলে সারা বছর পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করাসহ বিলের চারদিকে পরিকল্পিত পিকনিক স্পট এবং আবাসন সুবিধা গড়ে তোলা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আলী বলেন, পর্যটকদের সুবিধার্থে ইতিপূর্বে বিলপাড়ে বেঞ্চ তৈরি করার পাশাপাশি সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।