সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. শওকত আলী জানান, চলাচলের অনুপযোগী লুপলাইনটি মাটি ও ইটের টুকরো দিয়ে উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই ঐ রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন প্রবেশ করানো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীতে অপরিকল্পিতভাবে পণ্য খালাসের কারণে রেলওয়ের লুপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবোঝাই ওয়াগনগুলো ঐ সব রেলের ট্রাকে নেওয়া হচ্ছে। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথ চালু হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা এই পথে পাথর আমদানি করছেন। পাথরের ওয়াগনগুলো নীলফামারীর চিলাহাটি হয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে এনে তা আনলোড করা হয়। ইতিমধ্যে ১০৩ ওয়াগন ভারতীয় পাথর আনলোড করা হয়েছে এই স্টেশনে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ও অদক্ষ শ্রমিকের মাধ্যমে দিনরাত পাথর আনলোড করায় রেললাইনের (ট্রাক) যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। পাথরগুলো রেলপথের ওপর ফেলে দেওয়ার পর আমদানিকারকেরা ভেকু মেশিন দিয়ে তা পণ্যবাহী ট্রাকে লোড করছেন। এতে রেলপথের মাটিসহ স্লিপার ও রেল পাতের ক্ষতি হচ্ছে।
সৈয়দপুর স্টেশনের পণ্যবাহী ট্রেনের মালামাল আনলোডে শ্রমিকদের ট্যান্ডেল আফতাব আলম জানান, চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে ওয়াগনের মালামাল খালাস করায় দিনরাত কাজ করছেন। এতে রেলের ট্রাকে পাথর তো পড়বেই। ওয়াগন খালি করা তাদের কাজ। রেলের ক্ষতি তারা করছেন না বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পার্বতীপুরের প্রধান পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম সর্দার বলেন, ‘সৈয়দপুর স্টেশনে মাত্র চার জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। রাতে মালামাল খালাস করায় নিরাপত্তা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের।’
সৈয়দপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী সুলতান মৃধা জানান, স্টেশনের ৫ নম্বর লুপলাইনটি পাথর আনলোড ও ভেকু ব্যবহার করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এটি চলাচলের অনুপযোগী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে সৈয়দপুর স্টেশনমাস্টারকে অবগত করা হলেও তিনি ঝুঁকি নিয়ে পাথরের ওয়াগন ঐ লুপলাইনে প্রবেশ করাচ্ছেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. শওকত আলী জানান, চলাচলের অনুপযোগী লুপলাইনটি মাটি ও ইটের টুকরো দিয়ে উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই ঐ রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন প্রবেশ করানো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
