বোঝেন আমার কি কষ্ট হচ্ছে ? আমি তো পাগল হয়ে যাচ্ছি

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৩

মাদক মামলায় তৃতীয় দফায় এক দিনের রিমান্ড শেষে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বনানী থানার মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম আশেক ইমাম এ আদেশ দেন। পরীমনির জামিনের জন্য গতকাল নতুন কোনো আবেদন ছিল না। আদালতে জামিন আবেদন না থাকায় জামিনের শুনানি হয়নি।

এদিকে জামিন আবেদন না করায় আদালতে নিজের আইনজীবীদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন পরীমনি। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার আইনজীবীদের বলেন, আপনারা কি       করছেন? আমার সঙ্গে দেখা করার কি আছে? এতদিন হলো এখনো জামিন করাতে পারলেন না? বোঝেন আমার কি কষ্ট হচ্ছে? আমি তো পাগল হয়ে যাচ্ছি।

এসব কথা বলে আদালতের কাস্টডির রডে মাথা ঠেকিয়ে রাখেন পরীমনি। পরে আইনজীবীরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

প্রসঙ্গত, মাদক মামলায় এর আগে দুই দফায় ছয় দিন রিমান্ডে নিয়ে পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল বেলা ১১টা ৫০মিনিটে আদালতের হাজতখানায় আনা হয় পরীমনিকে। এরপর বেলা পৌনে ৩টার দিকে মহানগর হাকিম আশেক ইমামের আদালতে তাকে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীমনিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তিনি বলেন, আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, পরীমনি অসুস্থ। তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না। কোনো আইনজীবীর সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেওয়া হয় না। আমরা মামলার বিষয়ে আসামির সঙ্গে আলোচনা করতে চাই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু এ সময় বলেন, আসামির সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার বিষয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। এ সময় বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কি কথা বলতে চান?

মজিবুর রহমান বলেন, আমরা আইনগত বিষয়ে কথা বলতে চাই। প্রয়োজনে আপনি সিএমএম হাজতখানায় কথা বলার সুযোগ করে দেন।

এরপর বিচারক নথি পর্যালোচনা করে আদেশ দেবেন বলে জানান। আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান। তখনই পরীমনি তার আইনজীবীদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন।