নানা অজুহাতে দেশের বস্ত্রশিল্প ধ্বংস করার প্রক্রিয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন দেশীয় বস্ত্রকল মালিকরা। তারা বলেছেন, দেশের সব স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে মিথ্যা ঘোষণায় আনা সুতায় বাজার সয়লাব হয়ে যাবে। অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে দেশীয় বস্ত্রশিল্প খাতে গত এক বছরে যোগ হওয়া ১৫ লাখ নতুন স্পিন্ডাল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনিতেই বন্ড সুবিধায় আনা সুতা খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি অসাধু চক্র। চক্রটি কাঁচামাল হিসেবে সুতা আমদানির সুযোগ নিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আমদানি করছে এবং তা খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) নেতৃবৃন্দ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে প্রতিকার দাবি করে বলেছে, একটি সংগঠন দেশের সব স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ দাবি করেছে যা অযৌক্তিক। চিঠিতে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কিছু দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তার ব্যাখা দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছে, বেনাপোল বন্দরের পাশাপাশি অন্যান্য স্থলবন্দর, বিশেষ করে ভোমরা ও সোনামসজিদের মাধ্যমে বন্ড সুবিধার আওতায় সুতা, কাপড় ও বস্ত্র-পোশাক খাতের অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হোক। পাশাপাশি বেনাপোলসহ অন্যান্য সব অনুমোদিত স্থলবন্দর দিয়ে আংশিক শিপমেন্টের অনুমোদনও দাবি করেছে।
বিজিএমইএর দাবির পরিপ্রেক্ষেতে বিটিএমএ বলেছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি সুতার উচ্চ মূল্যের অভিযোগ এনে বিজিএমইএ এসব দাবি করেছে যা সঠিক নয় এবং এটি স্থানীয় বস্ত্রখাতে প্রতিষ্ঠিত একটি কার্যকর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিকে ধ্বংসের প্রক্রিয়া।
বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলি খোকন ইত্তেফাককে বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বন্ডের মাধ্যমে সুতা আমদানির বিধান রয়েছে। তাই এই বন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ক্ষেত্রে আংশিক শিপমেন্টের অনুমতি দেওয়া হবে আত্মঘাতী। কারণ, আংশিক শিপমেন্টের অনুমতি দেওয়া হলে একটি এলসির বিপরীতে কয়েকটি চালানে একই এলসির সুতার নামে অনেকগুলো ট্রাক আসবে যা অতীতেও হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সুতা স্থানীয় বাজারে বিক্রির কারণে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। অন্য স্থলবন্দরগুলো খুলে দিলেও একই অবস্থা হবে। মিথ্যা ঘোষণায় সুতা আসবে। তাতে সরকারও ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।
দেশীয় বাজারে সুতার দাম বেশি বলেই অভিযোগ করে আসছে বিজিএমইএ। এ প্রসঙ্গে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, তুলার মূল্যের বিপরীতে সুতার মূল্যবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশেরও কম। গত পাঁচ মাসে সুতার দাম বেড়েছে গড়ে পাঁচ সেন্ট করে। তদুপরি, দেশীয় সুতা কিনলে গার্মেন্টস কারখানাগুলো বেশকিছু সুবিধাও পেয়ে থাকে। রপ্তানি আদেশের বিপরীতে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে গার্মেন্টস কারখানায় সুতা পৌঁছে দেওয়া হয়। সুতার গুণমানে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তা বদলে দেওয়া হয়। সুতা আমদানির জন্য সাইট এলসির মূল্য পরিশোধে মাত্র পাঁচ দিনের সময় পাওয়া যায়। অথচ স্থানীয় সুতার মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে ১২০ দিন বা তারও বেশি সময় পাওয়া যায়। রয়েছে ৪ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তাসহ আরো অন্যান্য সুবিধা।
বিটিএমএ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিজিএমইএ আরো কিছু অসুবিধার কথা বলেছে। যেগুলো বস্ত্রশিল্পের জন্যও প্রযোজ্য। আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ও খরচ বৃদ্ধি, মজুরি, বিদ্যুত্, গ্যাস সমস্যা প্রভৃতির জন্য বস্ত্রশিল্পের মালিকরাও ভুক্তভোগী।
