লাল গামছা উড়িয়ে থামাল ট্রেন, বাঁচল যাত্রীদের প্রাণ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৫

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে এক ইটভাটা শ্রমিকের বুদ্ধিমত্তায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল পঞ্চগড়গামী একটি ট্রেন। বেঁচে গেল ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রীর প্রাণ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে পাঁচবিবি-হিলি রেল স্টেশনের মধ্যবর্তী কোঁকতারা নামক স্থানে। ট্রেনটিকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষাকারী যুবক নাজির হোসেন (৩৫) উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের কোঁকতারা গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে। তিনি আটাপাড়ার এনামুল হকের ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন।

নাজির হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি লাইনের ফিস প্লেট খোলা এবং অনেকটা অংশ ভাঙা দেখতে পান। এ সময় দেখেন পাঁচবিবি থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৩ নম্বর) আসছে। ট্রেনটিকে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচাতে তিনি তাত্ক্ষণিক রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ঘাড়ে থাকা লাল গামছাটি উড়িয়ে চিত্কার দিতে থাকেন। তার চিত্কার শুনে পাশের বাড়ির গোলজার দৌড়ে এসে তার সঙ্গে যোগ দিয়ে চিত্কার করতে থাকেন। ট্রেনচালক বিপদের আশঙ্কা বুঝতে পেরে ট্রেনটি থামান। ট্রেন থামার পর চালক ও যাত্রীরা নেমে রেললাইনের ভাঙা অংশ দেখে তাকে ধন্যবাদ দেন।

স্থানীয় বালিঘাটা ইউপি সদস্য আবু হাসান বলেন, নাজির অশিক্ষিত ছেলে, তবু বুদ্ধি খাটিয়ে শত শত মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। এটা ভেবে গর্বে বুকটা ভরে গেছে। পাঁচবিবি রেল স্টেশন মাস্টার আব্দুল আওয়াল জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে রেললাইন মেরামতের জন্য লোক পাঠাই। বর্তমানে ঐ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।