তালেবানের উপপ্রধান মোল্লা বারাদার কাবুলে

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৭

আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যেতে লোকজন যখন মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে, তখন তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদার দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে আলাপ-আলোচনার জন্য রাজধানী কাবুলে পৌঁছেছেন। তালেবানের এই উপপ্রধান মঙ্গলবার দোহা থেকে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে পৌঁছান। গতকাল শনিবার তিনি রাজধানী কাবুলে যান। তালেবানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন,            মোল্লা গনি এখন সবার অংশগ্রহণে একটি সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে জিহাদি নেতা ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বারাদার কাতারের দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক অফিসের প্রধান। আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য এত দিন তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তালেবানের যেসব শীর্ষস্থানীয় নেতা এখন দেশটির ভেতরে অবস্থান করছেন, বারাদার তাদের একজন। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন আফগান সরকারে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

যে চার ব্যক্তি ১৯৯৪ সালে তালেবান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বারাদার তাদের একজন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ২০০১ সালে তালেবান সরকার উত্খাত হওয়ার পর তিনি এই গ্রুপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানে এখন সরকার গঠনের কঠিন কাজটি শুরু হয়েছে। এর আগে কঠোর নিয়মকানুনে দেশ পরিচালনার জন্য এই গ্রুপের ব্যাপক নিন্দা করা হয়েছিল। সে সময় মাত্র তিনটি দেশ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু তালেবান এখন জানে যে তাদের এবার আগের চেয়ে ভিন্ন রকমের হতে হবে। সবার কৌতূহল আজকের এই তালেবানের নেতৃত্বে কী ধরনের সরকার গঠিত হয় তা দেখার। তালেবান ইতিমধ্যে সবার অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতা হামিদ কারজাই ও আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এখনো কাবুলে অবস্থান করছেন। আলোচনা করছেন তালেবান নেতাদের সঙ্গে। তালেবানের আরো একজন নেতা, যাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছিল, সেই খলিল হাক্কানিকেও রাজধানী কাবুলে দেখা গেছে। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। শুক্রবার তাকে দেখা গেছে সশস্ত্র ব্যক্তি পরিবেষ্টিত অবস্থায়।

পালানোর চেষ্টা অব্যাহত :এদিকে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য এখনো বহু মানুষ কাবুল বিমানবন্দরে জড়ো হচ্ছেন। মার্কিন প্র্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন যে, তারা এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার লোককে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বাইডেন অভিযোগ করেছেন, লোকজনের এই পালানোর চেষ্টায় বাধা দিচ্ছে তালেবান। অভিযোগে বলা হচ্ছে, কাবুলের যে সড়ক ধরে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হয়, সেই সড়কে তালেবান কিছু তল্লাশি চৌকি স্থাপন করেছে। সশস্ত্র তালেবান নেতারা বিমানবন্দরের চারপাশে টহল দিচ্ছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তালেবানের একজন নেতা লোকজনকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা তালেবানকে স্বীকৃতি দেবে না।

তিন জেলা বেদখল তালেবানের :আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ বাগলানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবানবিরোধীরা। শুক্রবার তাদের হামলায় বানো, দেহ সালেহ ও পুল-ই-হিসার তালেবানদের হাতছাড়া হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট। হামলায় তালেবানের ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিরোধীরা। ২০ জন তালেবান যোদ্ধাকে আটক করার কথাও বলছে তারা। এর আগে গত কয়েক দিন আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পতাকা হাতে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীরা তালেবানের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলে। শুক্রবার তালেবানদের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জেলা তিনটির সরকারি ভবনগুলোতে তালেবানের সাদা রঙের পতাকা সরিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের তিন রঙা পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়।