কথায় বলে তাল পাকা গরম! ভাদ্র মাসের গরমে বাজারে প্রচুর পাকা তালের সমারোহ দেখা যায়। তবে শ্রাবণের শেষ থেকেই হাটে-বাজারে পাকা তাল উঠতে শুরু করে। পাকা তালের মিষ্টি ঘ্রাণ ভাসে বাতাসে। তাল অত্যন্ত মিষ্টি এবং রসালো ফল। তালগাছ পাম গোত্রের একটি অন্যতম দীর্ঘ গাছ। এই গাছের পাতাগুলো পাখার মতো ছড়ানো থাকে। ফল এবং পাতার বহুমুখী ব্যবহারের কারণে তালগাছ জনপ্রিয়। তালগাছের পাতা থেকেই তৈরি হয় আরামদায়ক পাখা। তালের পাখার চাহিদা এখনো কিছু কমেনি। তালগাছের প্রায় প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ। পাখা ছাড়াও তালপাতা দিয়ে চাটাই, ঘরের ছাউনি, মাদুর, পুতুল তৈরি হয়। একসময় তালপাতা লেখার কাজে বহুল ব্যবহূত হতো। তালের কাণ্ড দিয়ে নৌকা তৈরি হয়, এমনকি বাড়িও।
বাংলা ভাষায় ‘তাল’ শব্দের একাধিক ব্যবহার রয়েছে। যেমন—তালগোল পাকিয়ে ফেলা অথবা তাল না থাকা (কারো হুঁশ না থাকলে বলা হয়)। আবার পিঠে তাল পড়ার কথাও গ্রামেগঞ্জে প্রচলিত। যাই হোক তাল এশিয়া ও আফ্রিকার গ্রীষ্মকালীন গাছ। আমাদের দেশে রাস্তার পাশে তালগাছ বেশি দেখা যায়। বজ্রপাতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে তালগাছ ব্যাপক হারে লাগানো উচিত। তালগাছ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের এই কবিতা কার না জানা—’তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে,/সব গাছ ছাড়িয়ে,/উঁকি মারে আকাশে।’
ফল এবং বীজ দুইই বাঙালির প্রিয় খাবার তালিকায়। যখন তাল ছোট থাকে তখন তালের মধ্যকার নরম রসালো শাঁসের চাহিদা থাকে ব্যাপক। আবার পাকা তালের চাহিদাও প্রচুর। মিষ্টি ঘন নির্যাস বের করা হয় তাল থেকে। বাজারে সচরাচর দুই ধরনের তাল দেখা যায়। একটি কালো এবং অন্যটি একটু লালচে বর্ণের। তালের নির্যাস থেকে নানা রকমের পিঠা তৈরি করা হয়। তালের রস আটার সঙ্গে মিশিয়ে বিশেষভাবে তেলে ভাজা হয়। এর বাইরেও তালের ব্যবহার রয়েছে। রস দুধ এবং চিনি দিয়ে ঘন জ্বাল দিয়েও খাওয়া হয়। তালের রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। তালে ভিটামিন এ, বি ও সি ছাড়াও রয়েছে জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। আরো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। তাল থেকে মিছরিও তৈরি হয়।
অলোক আচার্য
