ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পশ্চিমের জেলাগুলোতে এবার পাটের দাম চড়া। বর্তমানে প্রতি মণ ৩ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হচ্ছে। এতে চাষিরা খুশি। পাটের ফলনও ভালো হচ্ছে। পাট কাটা প্রায় শেষ। এখন চলছে ধোয়া ও শুকানোর কাজ। তবে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উত্পাদন খরচ বেশি পড়ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ২৬ হাজার ৪২৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ২২ হাজার ৮৬০ হেক্টরে, মাগুরায় ৩৫ হাজার ৮২০ হেক্টরে, কুষ্টিয়ায় ৪০ হাজার ৯৬৬ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ২০ হাজার ৫২৭ হেক্টরে এবং মেহেরপুর জেলায় ২০ হাজার ৪০ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে। চাষিরা জানান, পাট চাষ শুরুর প্রথমে খরার কারণে চাষ ব্যাহত হয়। সেচ দিয়ে চাষ করতে হয়। পরে আবহাওয়া অনুকূল হয়। জুনের শেষে আগাম চাষ করা নতুন পাট উঠতে শুরু করে। প্রথম ওঠা পাট প্রতি মণ সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়। এরপর দাম পড়ে ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা মণদরে কেনাবেচা হয়। তারপর আবার দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ ৩ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ হাটে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হয়। গত মঙ্গলবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা হাটে প্রতি মণ বিক্রি হয় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।
মেহেরপুরের তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, দরের কারণে কোনো কোনো ভিজা পাট আড়াই হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শুকনো পাট প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর গ্রামের চাষি ইজাজুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায় এবার পাটের দাম ভালো। প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হচ্ছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের চাষি মাসুদ হাসান পান্না জানান, এবার ৩৫ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেন। ১৭ মণ পাট হয়েছে। প্রতি মণ ৩ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
শৈলকুপা বাজারের পাট ব্যবসায়ী অনুপ কুমার সাহা জানান, তারা পাট কিনে বেসরকারি পাটকল ও খুলনার দৌলতপুরের পাট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। গত বছরে ভালো লাভ পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাট কিনে মজুত করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহেদুল আমিন জানান, এবার পাটের ফলন ভালো হচ্ছে। আর ভালো দাম পেয়ে চাষিও খুশি।
