ডাকাতিয়ায় কচুরিপানার জট

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ২০:৪৬

মো. মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

ডাকাতিয়া নদীতে কচুরিপানার আধিক্য বর্তমানে সব মাত্রা অতিক্রম করেছে। এই নদীর চাঁদপুর থেকে ফরিদগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার নৌরুটে নৌযান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি বোঝাতে গিয়ে অনেকে বলছেন, কচুরিপানার ওপর দিয়ে হেঁটে নদী পার হওয়া সম্ভব।

চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ নৌপথটি দিয়ে চাঁদপুর থেকে ৩০০/৪০০ মণ মাল নিয়ে একেকটি নৌকা চান্দ্রা, টুবগী, গাজীপুর হয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে আসত। বর্তমানে কচুরিপানা জটে নৌপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়ক পথে মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে।  নৌযান চালক/নৌকার মাঝিদের মধ্যে মো. জহির মাঝি, খালেক মাঝি, মালেক মাঝি, হারুন মাঝি, শাহাজান মাঝি জানান, ৭০/৮০টি নৌকা এ পথে চলাচল করে। কিন্তু বর্তমানে এসব নৌকার চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। তাদের অভিযোগ, শেখদি এলাকায় একটি নিচু ব্রিজ ও চাঁন্দ্রায় নদী ভরাট করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মিত হওয়ায় নদীতে স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই এখন আর পাল তোলা নৌকার দেখা মেলে না ডাকাতিয়ায়। ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল, জাহিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, লিটনসহ অনেকেই জানান, স্থলপথে মালামাল বহন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। অন্যদিকে নৌপথে খরচ অনেক কম, ঝুঁকিও কম। নৌকা বা নৌযানের মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চান ডাকাতিয়ার কচুরিপানা ও অন্যান্য বাধা অপসারণ করে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ নৌপথ সচল করা হোক। তাদের মতে নৌপথটি সচল হলে নানা ধরনের সুফল মিলবে।

এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সময় আরো জানা যায়, সরকার প্রতি বছর ডাকাতিয়া নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করে। কিন্তু কচুরিপানা পচে পানি দূষিত হয়ে যায়। এতে মাছে মড়ক লেগে কোটি কোটি টাকার মাছ নষ্ট হয়। ডাকাতিয়া নদীর সংস্কারের জন্য ৪৬৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি বেশিদূর এগোয়নি।

উপজেলা মত্স্যসম্পদ কর্মকর্তা মো. ফারহানা আক্তার রুমা জানান,  কচুরিপানা অপসারণের জন্য বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া দরকার। বরাদ্দ সাপেক্ষে এ সমস্যার  সমাধান করা যেতে পারে। উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা শিউলী হরী জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদী অংশ মূলত সিআইপি বেড়িবাঁধের ভেতরে, তাই নদীতে স্রোত নেই। ফলে কচুরিপানা জট ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে।  জেলা পর্যায়ে একটি  নদী রক্ষা কমিটি রয়েছে। সে কমিটির সভাপতি হচ্ছেন জেলা প্রশাসক। 

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান জানান, ডাকাতিয়া নদীটি বর্তমানে মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। কচুরিপানা অপসারণ ও দখল মুক্ত করে পরিবেশ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমি নদীর দখল, শেখদির নিচু ব্রিজ ও চান্দ্রার ইউনিয়ন ভূমি অফিস এলাকাটি সরেজমিন গিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি অঞ্জনা মজলিস খাঁন বলেন, কচুরিপানা জট, পানি ও পরিবেশদূষণ বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই। আমি জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলব।