সুতার দাম নিয়ে সমঝোতা বস্ত্রকল ও পোশাকশিল্প মালিকদের

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ২১:০৭

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সুতার দাম নিয়ে আপাতত সমঝোতা হয়েছে বস্ত্রকল ও পোশাকশিল্প মালিকদের মধ্যে। পোশাক খাতের সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত ৩০ সিঙ্গেল কার্ডের প্রতি কেজি সুতার সর্বোচ্চ দাম হবে চার ডলার ২০ সেন্ট (৩৫৭ টাকা)। এর ফলে যেসব স্পিনিং মিলের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে সুতা বিক্রি করছে, তাদের কমাতে হবে। অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দামের ইনডেক্স ১০০ ছাড়িয়ে গেলে সুতার দাম আবার বাড়বে। আর ইনডেক্স যদি ৮৫ বা তার নিচে নামে তাহলে সুতার দাম কমবে। কয়েক দিন ধরে তুলার দামের ইনডেক্স ৯৩ থেকে ৯৬-এর মধ্যে রয়েছে।

সুতার দাম নিয়ে শনিবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি রেস্টুরেন্টে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর নেতাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সুতার দাম নিয়ে কয়েকটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিন পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ভবিষ্যতে তুলার দাম হ্রাস-বৃদ্ধি হলে তিন সংগঠনের নেতারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা যায়। আপাতত সুতার দাম চার ডলার ২০ সেন্ট রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাতে যারা একটু বেশি দামে সুতা বিক্রি করছিল, তাদের সামান্য কমাতে হবে। আর যাদের সুতার দাম চার ডলার ২০ সেন্ট ছিল, তারা একই রকম রাখবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে তুলার দাম বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকমাস ধরে ইয়ার্নের দাম ঊর্ধ্বমুখী। স্থানীয় পোশাক শিল্প মালিকদের অভিযোগ, দেশের স্পিনিং মিল মালিকরা সুতার দাম অস্বাভাবিকহারে বাড়িয়েছেন। তবে টেক্সটাইল মিল মালিকদের দাবি, কটনের দামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ইয়ার্নের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হলে উভয়পক্ষের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সমঝোতার পথ খুঁজতে থাকেন। এর মধ্যেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি দিয়ে সুতা আমদানি সহজ করার দাবি জানায় বিজিএমইএ। এর বিপক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাল্টা চিঠি দিয়ে বিটিএমএ নিজেদের উদ্বেগের কথা জানায়।