ক্ষুধার্ত প্রাণীদের পাশে জাবি অধ্যাপক
আরিফুজ্জামান উজ্জল, জাবি সংবাদদাতা
রাত হলেই খাবারের অপেক্ষায় থাকে বন্ধ ক্যাম্পাসের ক্ষুধার্ত প্রাণীগুলো। একটি মাইক্রোবাসের জন্যই যত অপেক্ষা। মাইক্রোবাসটি আসলেই যেন অপেক্ষার প্রহর শেষ। কারণ, ওই মাইক্রোবাসটি আসলেই খাবার মিলবে। তাই তো দূর থেকে মাইক্রোবাসের লাইট জ্বলতে দেখলেই ছুটে আসে ক্ষুধার্ত শিয়াল ও কুকুরগুলো। উল্লেখ্য, করোনায় প্রায় দেড় বছর বন্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি)।
সরেজমিন দেখা যায়, রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে কয়েকটি কুকুর এবং তার পাশেই শহীদ মিনারসংলগ্ন সড়কে কয়েকটি শিয়াল বসে আছে। কিছুক্ষণ পর ঐ এলাকায় একটি মাইক্রোবাসের লাইট পড়তেই শিয়াল ও কুকুরগুলো ছুটতে থাকে। মুরাদ চত্বরে মাইক্রোবাসটি আসতেই কুকুরগুলো ছুটে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল। এরপর মাইক্রোবাস থেকে বড় পাতিলে খাবার নিয়ে বের হলেন দুই-তিন জন। তারা কিছুটা ফাঁকা ফাঁকা করে সড়কে খাবার দিচ্ছেন। আর পরম আনন্দে সেই খাবার খেয়ে খিদে মিটাচ্ছে ক্ষুধার্ত শিয়াল ও কুকুরগুলো। তবে শুধু মুরাদ চত্বরেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর ও ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রসংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।
জানা যায়, করোনায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে না থাকায় হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সকল খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে খাবার সংকটে পড়ে ক্যাম্পাসে বসবাসরত প্রাণীরা। এ সময় ক্যাম্পাসের ক্ষুধার্ত প্রাণীগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সালাম-বরকত হলের প্রাধ্যক্ষ ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী আজম তালুকদার।
প্রায় দেড় বছর ধরে ক্যাম্পাসের কুকুর, বিড়াল ও শিয়ালকে নিয়মিত খাবার দিচ্ছেন তিনি। ক্যাম্পাসের ২৭টি কুকুর ও ১১টি বিড়ালকে প্রতিদিন রাতে খাবার সরবরাহ করছেন তিনি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ১৫ থেকে ১৬টি শিয়ালগুলোকেও নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছে।
এ উদ্যোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. আলী আজম তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, অসহায় ও অভুক্ত এসব প্রাণীর প্রতি মমতা ও ভালোবাসা থেকেই কাজটি করছি। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ কাজটি চালিয়ে যাবেন।
