কেন বুলিং-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন নয় :হাইকোর্ট
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বুলিংয়ের শিকার হয়ে ঢাকায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং রোধে নীতিমালা প্রণয়নের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেয়। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বুলিং’ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
‘মোটা বলে সহপাঠী ও শিক্ষকের লাঞ্ছনার শিকার মৃত কিশোরের পরিবার যা বলছে’ শিরোনামে গত ৮ জুলাই বিবিসি বাংলায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় অ্যানোরেক্সিয়া এবং বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যুর পর তার পরিবার অভিযোগ করেছে, স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটেছে। কিশোরের বাবা মো. ফজলুল করিম বলেছেন, তার ছেলের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে বেশি হওয়ার কারণে, স্কুলে তাকে প্রায় নিয়মিতই বুলিং ও উপহাসের শিকার হতে হতো। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখা, ছেলেটি যেখানকার শিক্ষার্থী ছিল, তার কর্তৃপক্ষ বলছে, বুলিংয়ের কোনো অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত নন। ঐ কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, গত ২৫ জুন রাতে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল ছেলেটিকে। পরদিন রাত ১১টায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
এ ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং বন্ধে একটি নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত। পরবর্তীতে সময়ে একটি খসড়া নীতিমালাও তৈরি করা হয়। কিন্তু সেটি চূড়ান্ত করা হয়েছে কি না, তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং হচ্ছে এবং এর নির্মম শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরাই।
