বরিশালের ঘটনার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির তাগিদ সচিবদের

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ২৩:০৪

বরিশালের ঘটনার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষই কাছাকাছি অবস্থানে আছে। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কমিশনারদের সমন্বয়সভায় প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে বরিশালের সাম্প্রতিক ঘটনা। সচিবদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন কোনো কাজ করা ঠিক হবে না, যাতে জনমনে এই ধারণা হয় যে প্রশাসন ও রাজনীতি পালটাপালটি দুটি পক্ষ। তারা ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও তাগিদ দেন।

জানতে চাইলে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে। ধীরে ধীরে সবকিছুর সমাধানও হয়ে যাবে। সচিবদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকালই বরিশালে ফিরে গেছেন তিনি। এদিকে বরিশালে পোস্টার-ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাকে ভুল-বোঝাবুঝি বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গতকাল মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বরিশালের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বরিশালের বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে অভিযোগের পরও তারা কিন্তু কাজ করেছে। তারা এখন সেখানে ক্লিন করেছে। সেখানে প্রতিবাদ মিটিং-মিছিল ছিল, সেটা তো বন্ধ হয়েছে। হয়তো প্রশাসন ও মেয়র আলোচনা করে হয়তো একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে এসেছে। তারা বুঝেছে, এটা নিজেদের মধ্যে একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং। এটা কারো জন্যই শুভ নয়।’

অন্যদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই সরকার সবকিছু দেখছে।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে রয়েছেন জনপ্রতিনিধি, তিনি সরকারের এক্সিকিউটিভ বডির সদস্য। সরকারের কর্মচারীরাও এক্সিকিউটিভ বডির সদস্য।’

ফরহাদ হোসেন আরো বলেন, ‘সরকারের তিনটি বিভাগ—বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ। মেয়রও নির্বাহী বিভাগের সদস্য। কারণ তিনি সরকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছেন। সংসদ সদস্যরা আইন বিভাগের সদস্য। সবাইকে এক্তিয়ারের মধ্য থেকে তাদের আচরণ করতে হবে। তাদের যে কাজের গণ্ডি সংবিধানে দেওয়া, দায়িত্বের মধ্য থেকেই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট রাতে নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে শোক দিবসের ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইউএনওর সরকারি বাসভবনেও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। ইউএনওর মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে হুকুমের আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় ৩০-৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েক শ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শাহজালাল মল্লিক বাদী হয়ে পৃথক অন্য একটি মামলা করেন। দুটি মামলায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়।

১৯ আগস্ট রাতেই এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এর আগে সন্ধ্যায় সংগঠনের সভাপতি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের জরুরি সভা হয়। পরে রাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংগঠনটি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানায়। অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।