ইত্তেফাকের খবরে বলা হইয়াছে, পুলিশের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে পণ্য পরিবহন মালিকরা আন্দোলনে যাইতেছেন। গত শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-ট্যাংকলরি-প্রাইম মুভার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ইহাতে মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকরাও একাত্মতা প্রকাশ করিয়াছেন। তাহারা সম্প্রতি পুলিশ হেফাজতে নির্মমভাবে ট্রাক ড্রাইভার লিটন হত্যার বিষয়টি নিয়া চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাহারা আয়কর হ্রাস এবং পুলিশের হয়রানি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধসহ যে সকল দাবিদাওয়া উত্থাপন করিয়াছেন তাহাকে অযৌক্তিক বলিবার কোনো অবকাশ নাই। বিশেষ করিয়া স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়া বর্তমানে তাহারা যেই সকল অভিযোগ তুলিতেছেন এবং এই ক্ষেত্রে যে সংকট তৈরি হইয়াছে, তাহার অবসান একান্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, গত দুই বত্সর ধরিয়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএ ড্রাইভারদের লাইসেন্স ঠিকমতো দিতে পারিতেছে না। বাধ্য হইয়া অন্তর্বর্তীকালীন দেওয়া প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ বা একনলেজমন্টে স্লিপের সাহায্যে গাড়ি চালাইতেছেন ড্রাইভাররা। ইহাতে রাস্তায় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের মামলা ও হয়রানি বাড়িয়া গিয়াছে বলিয়া অভিযোগ উঠিয়াছে। যেই সকল ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হইয়া গিয়াছে তাহারাও পড়িয়াছেন বিপাকে। তাহাদের স্মার্ট কার্ডের মেয়াদ না থাকায় তাহারাও প্রতিনিয়ত সড়ক-মহাসড়কে মামলা ও নির্যাতনের শিকার হইতেছেন। গত মাস পর্যন্ত এক হিসাব অনুযায়ী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইতেছেন না প্রায় ১২ লক্ষ চালক। ইহাতে তাহারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়িয়াছেন। মূলত করোনার কারণে গত বত্সর হইতে শুরু হইয়াছে এই লাইসেন্স জট। গ্রাহকরা দিনের পর দিন ঘুরিতেছেন মিরপুরের বিআরটিএ অফিসে। গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা হইতে শুরু করিয়া সকল কার্যক্রমে দেখা দিয়াছে একপ্রকার অচলাবস্থা। অনেকেই বিদেশে গাড়ি চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিয়াছেন। কিন্তু স্মার্ট কার্ড না পাওয়ায় তাহারা বিদেশে যাইতে পারিতেছেন না। অনেকে পারিতেছেন না সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে আবেদন করিতে। আমরা জানি, ২০১১ সাল হইতে জাল, অবৈধ বা ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের প্রবণতা প্রতিরোধে ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড-সংবলিত ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু সম্প্রতিকালে এই স্মার্ট কার্ড ছাপানো নিয়া কিছুটা আইন ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার সৃষ্টি হইয়াছে। যদিও সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এইরূপ স্মার্ট কার্ড বিতরণ আবার শুরু হইয়াছে, কিন্তু তাহা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী অপ্রতুল। স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স বিতরণ প্রক্রিয়া গতিশীল না করিতে পারিলে গ্রাহকদের ক্ষোভ সহসা দূর হইবে না।
বিআরটিএর বক্তব্য হইল, অন্তর্বর্তীকালীন দেওয়া প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ বা একনলেজমেন্ট স্লিপ মোটরযান চালানোর অস্থায়ী অনুমতিপত্র বা প্রভিশনাল লাইসেন্স হিসাবে বিবেচিত হয়। তাই লাইসেন্সের সমস্যার কারণে গণপরিবহন পরিচালনায় সমস্যা থাকিবার কথা নহে। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশকে বিআরটিএর একনলেজমেন্ট স্লিপ দেখালেই চলে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ সেই গ্রাহককে হেনস্তা করিবে কেন? কেনই-বা ঘটিবে পুলিশ ও চালকদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা? অবশ্য চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদাররা যথাসময়ে কার্ড সরবরাহ না করিলে এই জন্য বিআরটিএ বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারে। এই ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি যাহাতে দ্রুত গণ ও পণ্যপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অসন্তোষের নিরসন হয়।
