বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার আদালতে দুটি পৃথক নালিশি মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ (সিআর) দুটি আমলে নিয়ে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপারকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকনের দায়ের করা নালিশি মামলায় ইউএনও মুনিবুর রহমান ও ওসি ছাড়াও সাব-ইন্সপেক্টর এবং ইউএনওর দেহরক্ষী পাঁচ আনসার সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদারের মামলায় ইউএনও ও তার দেহরক্ষী পাঁচ আনসার সদস্যসহ ৪০-৫০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম খান কায়সার এ তথ্য নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে জানান, তিনিসহ সিনিয়র আইনজীবী সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস, দিলীপ ঘোষ, আফজালুল করিম ও আইজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মাসউদ বাবলু মামলা পরিচালনা করবেন। গতকাল শুনানির সময় আদালতকক্ষে শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান। সকালে আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং বিকেল চারটায় বিচারক আদেশ দেন।
দুটি মামলার আবেদনেই ইউএনও মুনিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিসির কাজে বাধাদান, বিনা উসকানিতে কর্মচারীদের ওপর গুলি করার নির্দেশ প্রদান, হামলা ও গুলি করে একাধিক ব্যক্তির অঙ্গহানী এবং ৩০ থেকে ৪০ জনকে আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে একই আদালতে সকালে আওয়ামী লীগের ২১ নেতাকর্মীর জামিনের আবেদন জানান তাদের আইনজীবীরা। গত ১৮ আগস্ট রাতে ইউএনওর বাসায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে রেখে সুচিকিত্সা প্রদানের নির্দেশ দেয়।
