এবার নিয়ে মাত্র তৃতীয় বারের মতো মার্কিন সামরিক বাহিনী বাণিজ্যিক বিমান কাজে লাগাচ্ছে। এর আগে ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন এবং তারও আগে ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয়
যুদ্ধের আগে এবং যুদ্ধ চলাকালে বাণিজ্যিক বিমানের এমন ব্যবহার হয়েছিল
রয়টার্স
আফগানিস্তানে ঝুঁকির মধ্যে থাকা আফগান নাগরিক এবং মার্কিনিদের উদ্ধার অভিযানে তাদের তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের জন্য ছয়টি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসকে যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রতিরক্ষাদপ্তর পেন্টাগন রবিবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ১৮টি বাণিজ্যিক বিমানকে আফগানিস্তান থেকে আসা মানুষজনকে বহনের কাজে ডেকেছে। এর মধ্যে চারটি ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের, তিনটি আমেরিকান এয়ারলাইনসের, তিনটি আটলাস, তিনটি ডেলটা এবং তিনটি অমনি এয়ারের এবং দুটি হাওয়াই এয়ারলাইনসের বিমান। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনার কাজ ত্বরান্বিত করার চেষ্টার মধ্যে এই পদক্ষেপ নিল। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রণ ফেরার পর লোকজনকে উদ্ধারের এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ারই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘সিভিল রিজার্ভ এয়ার ফ্লিট’ (সিআরএএফ) এর এই সহায়তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে জরুরি পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করতে বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার হচ্ছে। এবার নিয়ে তৃতীয় বারের মতো মার্কিন সামরিক বাহিনী বাণিজ্যিক বিমান কাজে লাগাচ্ছে। এর আগে ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন এবং তারও আগে ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের আগে দিয়ে এবং যুদ্ধ চলাকালে বাণিজ্যিক বিমানের এমন ব্যবহার হয়েছিল।
তালেবান গত সপ্তাহে রাজধানী কাবুল দখলের পর থেকেই বহু আফগান দেশ ছাড়তে সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করেছে। রবিবারও বিমানবন্দরে ফ্লাইটের অপেক্ষায় থেকেছে হাজার হাজার আফগান। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন এক ন্যাটো কর্মকর্তা। তবে বিমানবন্দরের পরিস্থিতি অন্যান দিনের তুলনায় রবিবার কিছুটা শান্ত ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগের দিন শনিবার বিমানবন্দরের বাইরে ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়িতে সাত জনের মৃত্যু হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমান লোকজনকে তালেবান পিটিয়ে পিছু হটিয়ে দিয়েছে।
