ইত্তেফাক রিপোর্ট
‘একটা কুঁড়িকে দেখে যেমন প্রস্ফুটিত ফুলকে ভাবা কঠিন, তেমনি ৪০ বছর আগের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শুরুটা হয়েছিল কুঁড়ি থেকে, তখন আমরা ভাবিনি এটা এত বড় হবে। কিন্তু সেটা হয়েছে, আমি বিশ্বাস করি- এটা (বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র) আরো বড় হবে...’ কথাগুলো বলছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। গতকাল শুক্রবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তি উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল সকালে গণগ্রন্থাগারের সামনে থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ শোভাযাত্রা বের হয়। এতে তাশের দেশের রাজার পোশাক পরে শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। সঙ্গে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, কথাসাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, শিল্পী মোস্তাফা জামান আব্বাসী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নাট্যাভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, টিভি ব্যক্তিত্ব আবদুন নূর তুষার এবং নাগরিক টিভি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক প্রমুখ।
র্যালি শেষে দিনব্যাপী চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কণ্ঠশিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, প্রিয়াংকা গোপ, চন্দনা মজুমদারসহ অর্ধশতাধিক শিল্পী মাতিয়ে রাখেন মঞ্চ। গানের ফাঁকে ফাঁকে চলে গৌড়িয়, মনিপুরী, কত্থকসহ বিভিন্ন ধরনের নাচ, চলে আলোচনাও।
উত্সব আয়োজনে প্রায় ৩০ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের আপ্যায়নের জন্য বাঙালিয়ানা ধাঁচে পরিবেশন করা হয় দেশীয় খাবার।
অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, আলোকিত মানুষ গড়ার যে উদ্যোগ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার নিয়েছিলেন তা দেশ গড়ার প্রত্যয়ে অত্যন্ত দূরদর্শী একটি ভূমিকা ছিল।
চিত্রশিল্পী মুস্তফা মনোয়ার বলেন, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যেটা করেছেন- এখানে প্রগাঢ় একটা অনুভূতি কাজ করছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আরো অনেক দূর এগিয়ে যাক- এই কামনা করি।
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এমন একটা প্রতিষ্ঠান যেটার কোনো তুলনা নাই। এখন সারা পৃথিবীর বড় সমস্যা কেউ বই পড়ে না। আমাদের দেশে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এককভাবে সেই কাজটিই করে যাচ্ছে। ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের দূরদর্শী একটি ভাবনা এবং বাস্তবায়িত সফল প্রতিষ্ঠান।
