অ্যাসাইনমেন্টের ভোগান্তি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২১, ২১:১৫

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও হচ্ছে। তবে অনলাইন ক্লাস বলতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তাকে অনলাইন ক্লাস বলা কতটা যৌক্তিক তা বিশেষজ্ঞরাই বলতে পারবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় সাইট ফেসবুকে ভিডিও আপলোড আর লাইভ ক্লাসের মধ্যেই অনলাইন ক্লাস সীমাবদ্ধ। সেসব ক্লাসে ছাত্র আর শিক্ষকদের কোনো মিথস্ক্রিয়াই নেই।  সরকারি নির্দেশনায় বিশেষ বিশেষ শ্রেণির জন্য আবার ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা   সেসব অ্যাসাইনমেন্ট বাড়িতে বসে তৈরি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনে বিভিন্ন কোচিং  সেন্টারের শতভাগ নির্ভুল অ্যাসাইমেন্ট তৈরির চটকদার বিজ্ঞাপন আর নেটদুনিয়ায় গৃহশিক্ষকদের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে দেওয়ার স্ট্যাটাস দেখেই বোঝা যায় অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম কতটুকু ফলপ্রসূ হচ্ছে। অ্যাসাইনমেন্ট জমাদানের  ভোগান্তিও কম নয়। সুনামগঞ্জের এক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে চট্টগ্রামে আসার পথে বাসে পরিচয় হলো। দূরপাল্লার ভ্রমণের ভোগান্তির সঙ্গে পরিবহনের দ্বিগুণ ব্যয়ও গুনতে হয়েছে তাকে। আর যে করোনার ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, সে ভয় তো আছেই। অ্যাসাইনমেন্টগুলো সরাসরি জমাদানের অপশন বাদ দিয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে জমাদানের  ঘোষণা থাকলে লাখো শিক্ষার্থী ভোগান্তি থেকে বেঁচে যেতো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা