নির্বাচন উপযোগী সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর আওতায় কুমিল্লা-৭ সংসদীয় শূন্য আসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপনির্বাচনও রয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কমিশনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ঐ সভায় কবে কোন ভোট করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঐ সভার আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় কখন কোন প্রতিষ্ঠানের ভোট হবে—তার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করবে। এদিকে আদালত কর্তৃক স্থগিত সিলেট-৩ শূন্য আসনে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের ৮৪তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে আগামী জানুয়ারিতে ভোটগ্রহণ করার বিষয়েও আলোচনা করেছেন কমিশনারগণ। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিলেট-৩ আসনের ভোটগ্রহণ বিষয়ে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনারগণ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামী ৪ সেপ্টেম্বর এ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার আগ পর্যন্ত প্রার্থীরা একদিন প্রচার চালাতে পারবেন। এর আগে কোনোভাবেই প্রচার চালানো যাবে না। ২ সেপ্টেম্বরের পরেও প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন না। তিনি বলেন, যেহেতু এ আসনে গত ২৮ জুলাই ভোট হওয়ার কথা ছিল। গত ২৬ জুলাই উচ্চ আদালতের রায়ে সেটি স্থগিত হয়ে যায়। এ সময়ে নির্বাচনি প্রচার বন্ধ ছিল। যেহেতু অনেক দিন নির্বাচনটি স্থগিত রয়েছে তাই প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে যেতে একদিন প্রচারের সময় দেওয়া হয়েছে।
সচিব বলেন, কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচন, স্থগিত ৯টি পৌরসভা, প্রথম ধাপের স্থগিত ১৬৭টি ইউপি নির্বাচন, দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য উপনির্বাচন যেগুলো আসবে সেগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কমিশন সভায় কবে কোন নির্বাচন হবে তা নির্ধারণ করা হবে। কতগুলো প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সঠিক সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান বা এর কিছু বেশি সেটি প্রায় ৪ হাজারের মতো নির্বাচন করতে হবে। সারা দেশে সাড়ে ৪ হাজার ইউপির মধ্যে মাত্র ২০৪টির নির্বাচন করতে পেরেছি। করোনার কারণে বাকিগুলো স্থগিত রাখতে হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রায় সব ম্যাচুউরড হয়ে গেছে, সেগুলোতে নির্বাচন করতে হবে। দুই-তিনটি উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি মারা গেছেন, সেগুলোতেও উপনির্বাচন করতে হবে। পৌরসভাতেও কয়েক জন মারা গেছেন, সেখানেও নির্বাচন করতে হবে।
১৬ বছর বয়সিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে জন্ম নেওয়া নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি কমিশন সভায় আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঐ কমিটি ওয়ার্কআউট করে প্রাথমিক শেষ করলে তারপর আবার কমিশন সভায় আসবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনার জন্য এ বিষয়টি কমিশন সভায় তোলা হয়েছে। ঐ কমিটিকে বাইপাস করে কমিশন বৈঠকে আনা হয়নি। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারগণ, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
