গণটিকা কর্মসূচি আর নয় :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৯

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ছয় দিনের বিশেষ কর্মসূচির মতো করে গণটিকা কার্যক্রম আপাতত আর হচ্ছে না। যে পরিমাণ টিকা হাতে থাকবে সেই পরিমাণ নিবন্ধন করে টিকা দেওয়া হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আগামী দিনে গণটিকা কার্যক্রম আবারও শুরু হবে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে গণটিকা কার্যক্রম আমরা করছি না, কারণ সেই পরিমাণ টিকা আমাদের হাতে নেই। আমরা গণ কথাটা আগামী দিনে ব্যবহার করব না। আমাদের হাতে যখন যতটুকু টিকা আসবে এবং সেই টিকা যতগুলো লোককে দিতে পারব, সেই পরিমাণ লোককেই আমরা ডাকব। যাদের কাছে বার্তা যাবে, তারাই আসবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গণটিকা দেওয়ার সময় লম্বা লাইন আমরা না চাইতেও হয়েছে। আমেরিকার টিকা হোক আর চায়নার হোক, টিকার কাজ সবগুলোই ভালো। তাই হুড়োহুড়ি করে টিকা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

বর্তমানে দেশে সিনোফার্ম, মডার্না, ফাইজারের টিকার দুই ডোজ দেওয়া হচ্ছে উত্পাদকদের নিয়ম অনুযায়ী এক মাস বা চার সপ্তাহের ব্যবধানে। এই সময় কমিয়ে আনা যায় কি না, প্রধানমন্ত্রী তা দেখতে বলেছেন জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য দেশ ১৫ দিনের মধ্যে দিচ্ছে, টিকা প্রাপ্তিসাপেক্ষে এ বিষয়টিও আমরা দেখব বলে জানিয়েছি।’ ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে ছয় দিনের গণটিকা কর্মসূচিতে এনআইডি নিয়ে কেন্দ্রে গেলেই টিকা পাওয়ার যে সুযোগ রাখা হয়েছিল, তেমন সুযোগ আর থাকবে না বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অবশ্যই নিবন্ধন ছাড়া টিকা দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামের লোকেরা টিকা নিচ্ছিল না, এজন্য গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বেশির ভাগ টিকা শহরে দেওয়া হয়েছে, গ্রামে আমাদের বসবাস থাকলেও সেখানে কম দেওয়া হয়েছে।

দেশে টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের কম। তাদের মধ্যে ১ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ পেয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন তাদের মধ্যে ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংক্রমণ কমে আসছে, দৈনিক মৃত্যুও কমেছে। টিকা কার্যক্রম শহরে বেশি চলছে। গত পরশু অ্যাস্ট্রাজেনেকা আমরা পেয়েছি। ফাইজারের টিকা ৬০ লাখ পাব সেপ্টেম্বরের মধ্যে। চীনের সিনোফার্ম এ মাসের শেষে ১০ লাখ কনফার্ম করেছে। গত ১৫ দিনে অনেক কাজ করা হয়েছে এবং অনেক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। চায়নাতে নতুন ৬ কোটি ডোজের অর্ডারসহ মোট সাড়ে ৭ কোটি অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমাদের অফার দিয়েছে, আমাদের ক্রয় করে নিতে হবে যা আমরা নিয়েছি এবং এ সিদ্ধান্ত তাদের জানিয়ে দিয়েছি। টিকা পাওয়া সাপেক্ষে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৮ কোটির বেশি লোককে টিকা দেওয়ার আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, যেভাবে প্রতিশ্রুতি পেয়েছি এবং অর্ডার দিয়েছি, আগামীদিনে খুব একটা অভাব দেখা দেবে না। মন্ত্রিসভার বৈঠকে শ্রমিকদের টিকা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ফ্রন্টলাইনারদের টিকা দিচ্ছি। সকল কারখানার শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হবে।

এদিকে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড টিকার প্রথম ডোজ নেওয়া নাগরিকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে গিয়ে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এজন্য এসএমএসের অপেক্ষায় থাকতে হবে না।