খাদ্যের সংগ্রহ-পরবর্তী অব্যবস্থাপনা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৯

সমপ্রতি ‘পোস্টহারভেস্ট ম্যানেজমেন্ট অব ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল ফর ফুড সেফটি অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স’ নামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হইয়াছে। তাহাতে দেখা গিয়াছে, জমি হইতে ফসল সংগ্রহের পর ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাইতে বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়। সংগ্রহোত্তর অব্যবস্থাপনার কারণে বিশেষ করিয়া ফল ও সবজি নষ্ট হয় অধিক পরিমাণে। সবচাইতে বেশি নষ্ট হয় টমেটো। উত্পাদিত টমেটোর ৪২ শতাংশই সংগ্রহোত্তর দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে নষ্ট হয়। ফলের মধ্যে সবচাইতে বেশি নষ্ট হয় আম। বিশেষত ক্ষীরশাপাত আম ৩৭ ও ফজলি আম ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ নষ্ট হয়। কুমড়া, ফুলকপি, শসা, বাঁধাকপি এবং বিনও বিপুল পরিমাণে নষ্ট হয়। এইভাবে বত্সরে সবজি ও ফল নষ্ট হইতেছে ৩১ লক্ষ টন। উত্পাদক হইতে শুরু করিয়া মধ্যস্বত্বভোগী, সংগ্রহকারী, মজুতদার, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাতবদলের পর্যায়ে এই অপচয় হইতেছে। এই ক্ষতির পরিমাণ কীভাবে হ্রাস করা যায়, তাহা লইয়া চিন্তা-ভাবনা করা প্রয়োজন। কেননা ইহা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অন্যতম হুমকিস্বরূপ। আমাদের সবজি ও ফল উত্পাদনে এখনো যে ঘাটতি আছে, তাহা এই অপচয় রোধ করিয়া সহজেই পূরণ করা সম্ভব। এইজন্য নূতন করিয়া আমাদের করণীয় নির্ধারণ করিতে হইবে।

এই খাদ্য অপচয় রোধ করিতে হইলে উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে। প্রযুক্তিগুলি কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট সহজলভ্য করিতে হইবে। প্রদান করিতে হইবে নীতিগত সহায়তাও। আমাদের বিপণন ব্যবস্থায় এক ধরনের দুর্বলতা রহিয়াছে। গুদামজাত করিবার ব্যবস্থা উন্নত নহে। আবার পরিবহন ও প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রেও আমরা পিছাইয়া আছি। গুণগত মান অনুসরণ করিতেছি না। এইসব ফসল দ্রুত পচনশীল। ফলে এই ব্যাপারে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এইজন্য কুল-চেইন মানিতে হইবে। খাদ্য শুকানোর পদ্ধতিগত ত্রুটি দূর করিতে হইবে। এমন জাত উদ্ভাবন করিতে হইবে, যাহাতে ফসল কম নষ্ট হয়। ফসলের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরিও স্থাপন করিতে হইবে। আমরা যদি তাহা না করি, তাহা হইলে এইসব খাদ্যশস্য ও সবজি খাবারের অনুপযোগী হইয়া পড়িবে। কমিয়া যাইবে পুষ্টিমান ও ক্যালোরিমূল্য। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ লক্ষ খাদ্য ব্যবসায়ী রহিয়াছেন। তাহাদের খাদ্যের অপচয় রোধ ও গুণগত মান ধরিয়া রাখিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাইয়া যাইতে হইবে। তৈরি করিতে হইবে নিরাপদ খাদ্য উত্পাদন জোন। উল্লেখ্য, প্রতি বছর যে ৩১ লক্ষ টন ফল-সবজি নষ্ট হয়, তাহার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। সুতরাং এই খাদ্য অপচয়ের ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা ও সতর্কতার কোনো বিকল্প নাই।