বাবার জিম্মায় থাকা জাপানি নারীর দুই কন্যাসন্তান আপাতত থাকবে ঢাকার তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। এই সেন্টারে থাকাকালীন প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডা. নাকানো এরিকো এবং বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শরীফ ইমরান তাদের সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। রবিবার রাতে বাবার জিম্মা থেকে শিশু দুটিকে নিজ হেফাজতে নেয় সিআইডি পুলিশ। এর পরই বিষয়টি উচ্চ আদালতকে জানানো হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিশু দুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়। এ সময় আদালত উভয় পক্ষের কৌঁসুলিদের উদ্দেশে বলে, আশা করছি আপনারা শিশুদের বিষয়ে একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন।
দুই কন্যাসন্তানকে নিজের জিম্মায় নিতে হাইকোর্টে আবেদন করেন তাদের মা ডা. নাকানো এরিকো। ঐ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ১৯ আগস্ট এক আদেশে শিশুদের ৩১ আগস্ট আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে তাদের নিয়ে তাদের পিতা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য নিষেধাজ্ঞাও দেয় আদালত। এমন পরিস্থিতিতে গত রবিবার রাতে শিশু দুটিকে পিতার জিম্মা থেকে উদ্ধার করে সিআইডি তাদের নিজ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। রাতে শিশু দুটির মা সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। পরে রাতেই শিশু দুটিকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়।
সকালে শিশু দুটিকে পিতার জিম্মায় দিতে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। এতে বলা হয়, এভাবে বাসা থেকে শিশুদের নিয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। এতে শিশুরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। একই সঙ্গে আবেদনে শিশু দুটির বক্তব্য শোনা এবং তাদের মায়ের পাসপোর্ট সারেন্ডার করারও আবেদন জানান শরীফ ইমরানের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। অন্যদিকে শিশু দুটিকে জাপানিজ দূতাবাসে রাখার আবেদন করেন শিশু দুটির মায়ের আইনজীবী মো. শিশির মনির।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট শিশু দুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখার আদেশ দেয়। আদালত বলেছে, আপনারা দুজনই অভিজ্ঞ আইনজীবী। দেশি-বিদেশি আইন আপনাদের জানা আছে। শিশুদের অভিভাবকত্ব নিয়ে আপনারা নিজেরাই একটা সমাধান বের করবেন। বাবা-মায়ের কারণে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
