সংবিধানে নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হলেও তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তাই অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন আবশ্যক হয়ে পড়েছে। সম্পত্তির সমঅধিকারে ধর্মীয় রাজনীতি একটা বৃহত্ ভূমিকা পালন করছে। অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নে সব সম্প্রদায়ের তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ। গতকাল সোমবার বিকালে ‘সব নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে অভিন্ন পারিবারিক আইন (ইউএফসি) প্রণয়নের লক্ষ্যে’ তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে অনলাইনে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা একথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বাসুদেব ধর বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিন্দু নারীদের সমঅধিকার দিতে চাইলেও হিন্দুগোষ্ঠীর অনেকে তাতে আগ্রহী নয়। অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নে আন্দোলন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিরোধীদের সচেতন করতে তরুণদের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণীত হলে তা সকলের জন্য সহায়ক হবে। সব ধর্ম, গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকবে।
মহিলা ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি মধুমিতা বড়ুয়া বলেন, বৌদ্ধদের জন্য কোনো আলাদা পারিবারিক আইন না থাকায় এই জনগোষ্ঠীর নারীরা বৈষম্যের শিকার। আর এই সম্প্রদায়ের অনেকেই পারিবারিক আইন প্রণয়নে বিরোধিতা করে আসছেন।
মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, মহিলা পরিষদ অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সম্পত্তি, বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, দত্তক, সন্তানের অভিভাবকত্ব, ভরণপোষণ ইস্যুতে নারীদের সমান অধিকারের পক্ষে রাষ্ট্রের কাছে নানা সময়ে দাবি জানিয়ে আসছে।
মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে এখনো অনেক বাধা আছে। সংবিধানে নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হলেও তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন আজ সময়ের দাবি।
