বিশ্বজুড়েই মেকআপ বিষয়টা এখন নিত্যপ্রয়োজনীয়। নানা ব্র্যান্ড আর নানা উপকরণ, লক্ষ্য একটাই- নিজের ভালো লাগার জন্য সেজে ওঠা। আজকের গল্পটা খাদিজা ইসলাম রিমকে নিয়ে, যিনি সাজগোজের মেকআপপ্রেমী বন্ধুদের জানিয়েছেন নিজের ভালো লাগা এবং তার স্বপ্ন সম্পর্কে। সেই সঙ্গে দিয়েছেন দারুণ কিছু মেকআপ টিপসও।
আয়নায় নিজের প্রতিমূর্তি দেখা, পরক্ষণেই উজ্জ্বল হাসি। মেকআপ বক্স দেখলেই নিজেকে সাজিয়ে তুলতেন অপরূপ বেশে। সেই রিম আজ নিজের হাতে সাজিয়ে তুলছেন হাজারো রমণীকে। ছোট-বড় যেকোনো বয়সীকেই সাজিয়ে তুলতে এক অনবদ্য ভূমিকা রাখছেন তিনি।
শুরুটা ২০১৫ সাল, গ্রাজুয়েশন শেষ না করতেই বিয়ে হয়ে যায় রিমের। তবে অবসর সময়টিতে নিজের আনন্দ খুঁজে নিতে শুরু করে দেন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে পথচলা। এ সম্পর্কে রিম জানায়, আমি ছোট থেকেই মেকআপ খুব পছন্দ করতাম। বাসায় মেকআপ করতে করতে আমার হাতও চলে আসে। তারপর আমি কিছু আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ করি। আমি আন্তর্জাতিক মেকআপ আর্টিস্ট সালেহা সারোয়ারের কাছে কোর্স করি তারপর আমি উনার ওয়ার্কশপে সহকারী হিসেবেও কাজ করি। আমি সেলিব্রিটি এবং আন্তর্জাতিক মেকআপ আর্টিস্ট সেলিনা মুনিরের তিনদিনের ব্রাইডাল ওয়ার্কশপ করি। তাছাড়া আমি আন্তর্জাতিক কোর্স করি হেয়ার কালার, হেয়ার কাটের ওপর।

২০১৬ সালে নিজের তৈরি মেকআপ টিউটোরিয়াল নিয়ে শুরু করে ইউটিউব চ্যানেলে পথচলা। তার টিউটোরিয়াল দেখার পর অনেকের প্রশংসায় তিনি প্রেরণা পায়। এরপর রিম নিজের একটি পার্লার প্রতিষ্ঠা করেন। উত্তরাতে অবস্থিত 'রিমস মেকওভার স্টুডিও'-টি তার নিজের এবং পরবর্তীতে আরও ব্রাঞ্চ চালু করার ইচ্ছার কথা জানান তিনি ।
রিম শুধুমাত্র স্বপ্ন দেখতে নয় বরং অন্যকে স্বপ্ন দেখাতেও ভালোবাসেন। জীবনে নিজের সাফল্য যেমন তাকে আনন্দ দেয় ঠিক তেমনি অন্যের সাফল্যও তাকে মুগ্ধ করে। এই লক্ষ্যে রমণীদেরকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি নিজের পার্লারের স্থান দিয়েছেন তেমনি কিছু কর্মীকে। যারা রিমের সাথে সাজিয়ে তুলছেন নিজেদের স্বপ্নকে। তিনি বলেন, তার বাবা -মা এবং বড় মেয়ে 'সুরা' তার জীবনের সেরা অনুপ্রেরণা। একটি সহায়ক পরিবারের সহায়তায় , তিনি তার নিজের পোশাকের লাইন - 'ফীম সিটি বাই রিম' শুরু করেন। তিনি মেকআপ কোর্সের পাশাপাশি ডিজাইনিংয়ের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোর্স নিয়েছিলেন।
'মিরব ডিভা' নামক ফেসবুক পেজটি রিমের নিজস্ব। যেখানে প্রায় দুই লাখ ফলোয়ার রয়েছে। এছাড়াও রিম বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসা এবং ব্র্যান্ডের ভূমিকা প্রবর্তক হিসেবেও কাজ করছেন। পোশাক, সৌন্দর্য কিংবা খাবার সে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের প্রচারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। রীম সত্যিকার অর্থে কাজ করছে অন্যদের তুলে নিয়ে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
