জাপানের এক গ্রাম। সেই গ্রামে ছিল মাটি-খোঁড়া এক আশ্চর্য প্রাণী—ছুছুন্দরী। ছুছুন্দরীর ছিল বিয়ের যুগ্যি এক সুন্দরী মেয়ে। সেইমতো একদিন রাজ্যের সব ছুছুন্দরী এক সভায় জড়ো হয়। সভায় বাবা-ছুছুন্দরী বলে, ‘জাপানের সবচেয়ে বড় ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হবে।’
নানা মজার কথা হয় সভায়।
‘গোটা জাপানে সূর্যই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো।’
‘তবে আর কী! সূর্যের সঙ্গেই মেয়ে-ছুছুন্দরীর বিয়ে।’
‘সূর্যের ওপরেই তো আকাশ!’
‘আকাশই তবে মেয়ের ভালো বর।’
‘আকাশ অনেক সময় মেঘে ঢাকা থাকে। মেঘই সবার চেয়ে দামি।’
‘মেঘেরই প্রাপ্য মেয়ে—ছুছুন্দরী।’
‘না, মেঘ আর এমন কী! বাতাসের এক পলকে মেঘ হাওয়া। বাতাসই সবচেয়ে দামি।’
‘বাতাসই আমার মেয়ের আসল বর।’
‘বাতাসে অনেক বড়-বৃষ্টি হয়। নদীর পাড় তো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।’
‘তবে তো নদীর পাড়ই মেয়ে-ছুছুন্দীর খাঁটি বর।’
‘তোমাদের কথার কোনো মাথা-লেজ নেই। ছুছুন্দরীই কেবল অমন শক্তিশালী নদীর পাড়ে গর্ত খুঁড়তে পারে। জাপানে তাই ছুছুন্দরীই সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণী।’
‘পুরুষ-ছুছুন্দরীই মেয়ের সবচেয়ে ভালো বর।’
তারপর মহাউত্সবে দুই ছুছুন্দরীর বিয়ে হয়।
জাপানের লোককাহিনি
রূপান্তর :কুতুব আজাদ
