সাঁথিয়ায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র
সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় দুটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র নির্মাণ হলেও সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এছাড়া উপজেলার কুমিরগাড়ীর কেন্দ্রটি জলাবদ্ধতার কারণে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কেন্দ্র দুটি চালু না হওয়ায় গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র্য অসহায় পরিবারের মায়েরা সঠিক ও অল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেবা গ্রহণ করতে তাদের বিভিন্ন ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়াও ভুল চিকিত্সায় অনেক মা ও শিশু অকালে মৃত্যুবরণ করছে। অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে সেবাকেন্দ্রের আসবাবপত্র। এলাকাবাসী জানায়, তিনটি কেন্দ্র চালু হলে গ্রামাঞ্চলের মা ও শিশুরা এ কেন্দ্র থেকে কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। কর্তৃপক্ষ বলছে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম শুরু হবে।
জানা যায়, সাঁথিয়ার গ্রামাঞ্চলের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকেন্দ্র নির্মানের উদ্যোগ নেন। ২০১৯ সালে উপজেলায় তিনটি মা ও শিশুকেন্দ্র নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ঐ সময়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষে গত বছরের শেষের দিকে সোনাতলা ও চলতি বছরের মে মাসে কাশিনাথপুরের মা ও শিশুকেন্দ্রটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাশিনাথপুর মা ও শিশুকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ইতিমধ্যে জানালার গ্রিল কেটে কিছু মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে পারে কেন্দ্রের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ দামি জিনিসপত্র।
পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য খোরশেদ আলম ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মিঠুল জানান, স্থানীয় এমপি অ্যাড: শামসুল হক টুকু এবং ঐ সময়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বাবলু কুমার সাহার চেষ্টায় মা ও শিশুকেন্দ্রগুলো নির্মাণ হয়। যা পল্লি অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
পাবনা স্বাস্থ্য প্রকৌশলের সহকারী প্রকৌশলী শামসুল আরিফিন জানান, নির্মাণকাজ শেষে আমরা সাঁথিয়ার দুটি কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিকট হস্তান্তর করেছি। পাবনার পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক শামসুল আলম জানান, করোনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে জনবলের অভাবে এখনো মা ও শিশুকেন্দ্র চালু করা সম্ভব হয়নি।
