সেচসুবিধার আওতায় কয়েক হাজার কৃষক

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২১, ২০:৪৬

বুড়ি তিস্তা প্রকল্প ফের চালু

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

১০ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে সেচ প্রকল্প নীলফামারীর বুড়ি তিস্তা। ফলে সেচ প্রকল্প থেকে আবারো সেচ সুবিধা পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ১৫ হাজার কৃষকের মধ্যে। প্রকল্পটি থেকে এবার সেচ সুবিধা পেয়ে আমন চারা রোপণ এবং পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সাত ইউনিয়নের অনাবাদী জমিতে ফসল ফলাতে ষাটের দশকে নির্মাণ করা হয় এই বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প। ১৯৬৮-২০১০ সাল পর্যন্ত সেচ সুবিধা পায় কৃষকরা। কিন্তু ২০১০ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যারাজের উজানে এক হাজার ২১৭ একরের জলাধারাটি মত্স্য চাষের জন্য একটি সংস্থাকে লিজ দেওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় সেচ কার্যক্রম। এতে কমান্ড এরিয়ায় বন্ধ হয়ে যায় আমন, ইরি বোরো ধান, গমসহ অন্যান্য চাষাবাদ। এ সংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে চলমান থাকার পর গত ২০১৮ সালে খারিজ হয়ে যায়। মামলার সমাপ্তি ঘটলে সংস্কার করা হয় বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান খাল ও ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চারটি শাখা খাল। এসব খালের পানি ৫৭টি আউটলেটের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে জমিতে সরবরাহ পাওয়ায় পর দূর হয়েছে পানির সমস্যা। ফলে চলতি আমন আবাদে অনাবৃষ্টির ধকল থেকে রক্ষা পেয়েছে ১৫ হাজার কৃষক।

কালীগঞ্জ এলাকার কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, সেচ পাম্প দিয়ে আবাদ করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। যাদের আর্থিক অবস্থা একটু ভালো তারা পাম্পের সাহায্যে সেচ দিয়ে আবাদ করেছে। আমরা যারা ছোট কৃষক তাদের পক্ষে পানি কিনে আবাদ করা সম্ভব না। এতে লোকসান হয়। এবার তিস্তার পানিতে সেই লোকসান গুনতে হবে না।

বঙ্গবন্ধু বাজার এলাকার কৃষক জামিয়ার রহমান বলেন, ব্যারাজের উজানে জলাধার মাছ চাষের জন্য লিজ দেওয়ায় আমরা অনেক দিন প্রকল্পের পানি দিয়ে আবাদ করতে পারিনি। তখনকার সময় আমাদের জমি পতিত পড়ে ছিল। আমার যে চার বিঘা জমি আছে অনেক বছর আবাদ করতে না পারায় পরিবার চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। এবার বিনা পয়সায় সেচের পানি পেয়ে আমরা খুব খুশি। এ বিষয়ে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বকর ছিদ্দিক জানান, এ বছর বুড়ি তিস্তা প্রকল্প পুনরায় চালু হওয়ায় কৃষকের পাট জাগ ও আমন আবাদ সহায়ক হয়েছে। আশা করি, তারা উপকৃত হবে।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মামলা সংক্রান্ত একটি জটিলতায় দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে সেচ সুবিধা। পরিশেষে ২০১৮ সালে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। বর্ষার চলতি মৌসুমে যে পরিমাণ বৃষ্টির প্রয়োজন জেলায় এবার তার অর্ধেকও পাওয়া যায়নি। তাই আমরা কৃষকদের চাহিদা কথার ভেবে সামান্য কিছু সংস্কার করে সেচ সুবিধা প্রদান করেছি। আশা করছি, প্রকল্প এলাকায় ৬ হাজার মেট্রিক টন ধান বাড়তি উত্পাদিত হবে।’