চাষের জমিতে কীটনাশকের নির্বিচার ব্যবহার, ঝোপঝাড় ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ণের ফলে বসবাসের জায়গা ধ্বংসের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের বাংলাদেশেও কমছে পরাগবাহকদের সংখ্যা। যার ফলাফল আদতে কৃষিক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এতে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র চাষিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন। নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোল্যুশনের এক গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের এই ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো তিন-চতুর্থাংশ খাদ্যশস্য এবং ফুলগাছের প্রজননের জন্য অত্যাবশ্যক মৌমাছি, প্রজাপতি, বোলতা, বাদুড় এবং হামিংবার্ডের মতো পরাগবাহক প্রজাতিদের সংখ্যা কমে যাওয়া। এর ফলে কমছে পরাগমিলনের হার এবং সংকটাপন্ন হচ্ছে ক্ষুদ্রচাষির জীবন-জীবিকা। পরাগবাহকদের সংখ্যা কমার পেছনে ৮টি কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর ফলে ১০ রকম ঝুঁকি বা বিপদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক এক জায়গায় এক এক রকম কারণ। তবে দুনিয়াজুড়ে পরাগবাহক হারানোর মূল কারণগুলি হলো এদের বাসস্থান ধ্বংস, সার ও কীটনাশকের ঢালাও ব্যবহার, চারণভূমির আয়তন বেড়ে যাওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তন। এ অবস্থায়, আমাদের দেশের উচিত নিজেদের স্বার্থেই কৃষিনীতির সঙ্গে জমি ব্যবহারের নীতি বদল করা। পরাগবাহকদের স্বাস্থ্য বজায় রাখা জরুরি। আর এজন্য জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ভূচিত্রে পরাগবাহকদের বাসস্থান পুনরুদ্ধার করতে হবে।
লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা
