বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আহূত তৃতীয় বিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশিত হয়েছে গত ১৫ জুলাই। ফল প্রকাশের এক মাস পরও শুরু হয়নি পুলিশ ভেরিফিকেশন! বিগত নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কোনো শর্ত ছিল না, এবারই নতুনভাবে এই প্রক্রিয়া যুক্ত হয়েছে। অন্যান্য সরকারি নিয়োগের বেলায় যোগদানের পর প্রবেশন পিরিয়ড চলাকালে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়। এবারের তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৩৮ হাজারেরও বেশি শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। লক্ষণীয় ব্যাপার এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশনের মতো সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়াকে পূর্বশর্ত হিসেবে সামনে এনে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতিকে ধীর করে ফেলা হয়েছে। অথচ করোনাকালীন দুঃসময়ে হাজারো শিক্ষককে যদি শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হতো, তাহলে বেকার শিক্ষকদের বেকারত্বের স্থিতিকাল এতটা দীর্ঘায়িত হতো না।
দেশব্যাপী এত এত শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং সমুদয় শিক্ষকের ভেরিফিকেশনের কাগজপত্র সমন্বয় করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর সবশেষে এনটিআরসিএ-র কাছে পৌঁছানোর পর চূড়ান্ত সুপারিশপত্র প্রেরণের জটিলতর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে তিন-চার মাস লেগে যেতে পারে। এতে যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, সেটা হলো সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক যাঁরা শিক্ষকতাতে নিজেদের থিতু করতে মনস্থির করেছেন, তাঁরা অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় বসছেন না। সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে কার্যত সুপারিশকৃত প্রতিষ্ঠানেও যোগদান করতে পারছেন না তাঁরা। পুলিশ ভেরিফিকেশন সন্তোষজনক না হলে এমপিওভুক্তি হবে না অথবা সুপারিশপত্র বাতিল হবে—এই মর্মে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র ইস্যু করা যেত। সুতরাং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুলিশ ভেরিফিকেশনের আগেই চূড়ান্ত সুপারিশপত্র ইস্যুর ব্যাপারটি পুনঃবিবেচনা করার অনুরোধ করছি।
জমাতুল ইসলাম পরাগ
নগুয়া, কিশোরগঞ্জ
