পানি কোথাও বাড়ছে কোথাও কমছে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৯

পদ্মা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে কোথাও কোথাও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে আবার কোথাও পানি কমায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপত্সীমার ৫৩ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাবনায় পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এরই মধ্যে যমুনার পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার অভ্যন্তরীণ ইছামতি, হুরাসাগর, গুমানি, চলনবিলসহ বেশ কিছু নদী-বিলের পানিও বেড়েছে। কুষ্টিয়ায় এক দিনে পদ্মায় ৮ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। এ সময় গড়াই নদীর পানি কমেছে ১১ সেন্টিমিটার।

যমুনার শাখা নদীগুলোতে পানি বাড়ায় মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামের শতাধিক বাড়ির আঙিনায় হাঁটু পানি জমে গেছে। মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনায় নতুন করে উচ্চতা না বাড়লেও শাখা নদীগুলোতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী, গাজীখালী ও ইছামতী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জে স্থিতিশীল    রয়েছে যমুনা নদীর পানি। তবে চলনবিলসহ জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। টাঙ্গাইলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। টাঙ্গাইল পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ধলেশ্বরী, বংশাই ও পুংলী নদীর পানি। এর মধ্যে ধলেশ্বরীর নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার ও পুংলী নদীর পানি বিপত্সীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে পাট, ধান, সবজিসহ জমির ফসল। সরকারি ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পানিবন্দি মানুষ।

ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। জেলা সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার ফসলি খেত, রাস্তা ও নিচু এলাকার বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ। সেই সঙ্গে সুপেয় পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

পাবনা সংবাদদাতা জানান, নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে আছে হাজারও মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। যমুনা নদীর পানি নগরবাড়ী পয়েন্টে বিপত্সীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর পদ্মা নদীর পানি পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপত্সীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং বড়াল নদীর পানি বড়াল ব্রিজ পয়েন্টে বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, পদ্মা আর গড়াই নদীতে পানি কমতে থাকায় এই দুই নদীর উপকূলে ভাঙন বেড়েছে। মিরপুরের তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী ছয় গ্রামে ব্যাপক ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতবাড়ি, ফসলি জমিসহ বেশকিছু স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়েছে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের একমাত্র মহাসড়কটি।