কমলগঞ্জে আগ্রাসী গাছের হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২৯

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

দ্রুত বর্ধনশীল হিসেবে পরিচিত আকাশমণি, মেনজিয়াম, ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন আগ্রাসী প্রজাতির ভিনদেশি গাছের কাঠ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ফলে কম সময়ে বেশি টাকার আশায় এসব গাছ রোপণে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে। কমলগঞ্জ উপজেলাসহ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও কৃত্রিম বনায়ন ছাড়াও বাড়ি-ঘরের আশপাশে রোপিত এসব ভিনদেশি গাছের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক যুগ ধরে রাস্তার ধারে ও ব্যক্তি উদ্যোগে ইউক্যালিপটাস, পাইন, রাবার, আকাশমণি, মেনজিয়ামসহ বিদেশি প্রজাতির গাছ দিয়ে বনায়নের হিড়িক শুরু হয়। ফলে দেশীয় প্রজাতির মূল্যবান কাঠ ও ফলের গাছ এবং ঔষধি বৃক্ষের চাষ ও সংরক্ষণের বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত হয়ে আছে। সামাজিক বনের এ সকল গাছের ছায়ায় পড়ে ধান ক্ষেতে রোগ ও পোকার আক্রমণ বেড়ে গেছে। প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মার মতে, ইউক্যালিপটাস, শিশু, মেহগনি, রেইনট্রি অত্যধিক পানি শোষণ করে জমি শুকিয়ে ফেলে। শিকড় গভীরে প্রোথিত না হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশে অন্য গাছপালা জন্মাতে দেয় না। 

গবেষকদের মতে, গাছপালা বা পশুপাখির যেকোনো প্রজাতি ভিন্ন পরিবেশ থেকে এনে বিস্তার ঘটাতে দিলে কালক্রমে তা হয়ে ওঠে আগ্রাসী প্রজাতি। বন্য প্রাণীরা বাসস্থান ও খাবারের জন্য দেশীয় উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভিনদেশি এসব আগ্রাসী প্রজাতির উদ্ভিদ বেশি বেশি রোপণের ফলে দেশীয় পশুপাখির আবাস সংকুচিত ও খাদ্যসংকটও হচ্ছে। এসব গাছ মাটির উর্বরতা শক্তিও কমিয়ে দেয়। কৃষিজমি বিনষ্ট, মত্স্য চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি সৃষ্টি করছে। এসব গাছের ছায়ায় ধান ক্ষেত ও মত্স্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাক্তন কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামসুদ্দীন আহমদ জানান, ভিনদেশি আগ্রাসী গাছের ছায়ায় ধান ক্ষেতে পাতা মোড়ানো রোগসহ বিভিন্ন ছত্রাকে আক্রান্ত করে। আকাশমণির পাতা ঘন, এমনকি সূর্যের আলো মোটেও পড়ে না। এগুলো আমাদের প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। এসব গাছের পাতা পড়ে কৃষিক্ষেত বিনষ্ট হয়।