প্রকল্পে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির খরচ যুক্ত করতে হবে

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২১, ০০:২৪

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) মাধ্যমে গৃহিত প্রকল্পে জলবায়ুু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির খরচকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমাদের দেশে অর্থায়নের একটি বড় অংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। আমাদের বার্ষিক জিডিপির ৮১ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে যেখানে ১৯ শতাংশ আসে সরকার থেকে।

গতকাল বুধবার ‘এড্রেসিং ক্লাইমেট চেইঞ্জ ইন্ডিউজড লস অ্যান্ড ডেমেজ ইন বাংলাদেশ ইন পার্টনারশিপ উইথ প্রাইভেট সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এসব কথা বলেন। পিপিপিএ-এর সঙ্গে একশনএইড বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ড. আহমদ কায়কাউস আরো বলেন, জলবায়ুজনিত ক্ষয়-ক্ষতির অর্থায়নে বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলোকে সরকারের ?গৃহীত ও বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এসব প্রকল্পে যদি ক্ষয়ক্ষতির খরচ যুক্ত করা যায় তবে আমরা সহজেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে কাজ করতে পারব। এক্ষেত্রে তিনি প্রশমন বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেন। তিনি পরবর্তী প্রজন্ম ও সুন্দর আগামীর জন্য এ কাজে বেসরকারি খাতকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, অভিযোজনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। আমরা এখন জলবায়ু প্রভাবের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিলেও কিছু সময় পরে আমরা আর মানিয়ে নিতে সক্ষম হব না। অভিযোজন কোনো সমাধান নয়। আমাদের প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে নতুন উপায় বের করার ওপর জোর দিয়ে বলেন আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে ২০২০-২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়নের জন্য আর্থিক প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। প্যারিস চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যথাযথভাবে ঝুঁকি চিহ্নিত ও সে ঝুঁকির মূল্যায়নের কথা বলেন। তিনি বলেন, এ কাজে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে আমাদেরকে তাদের জন্য লাভজনক ব্যবসার দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ক্ষয়ক্ষতি সব দেশের জন্য সমান নয়। এটি সামাজিক বা আঞ্চলিক হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন মূল্যায়নের সময় এই ক্ষেত্রগুলো বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বেসরকারি খাতকে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুু অর্থায়নের জন্য সরকারি খাতের সঙ্গে হাত মিলানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ বলেন, যে কোনো প্রকল্প শুরু করার সময় জলবায়ু পরিবর্তন এবং এ সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত এবং পিপিপি-কেও একই সঙ্গে অবকাঠামো জলবায়ুু প্রতিরোধী কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনোই প্রেফনটেইন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো, ইউএনডিপি আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মুনজুরুল হান্নান খান, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইসিসিসিএডি) পরিচালক ড. সালেমুল হক প্রমুখ।