রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসিক কমপ্লেক্স ভবনের পর্দা ক্রয় এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনশুমারি প্রকল্পে ট্যাবলেট ক্রয়ের দর প্রস্তাব অনুমোদন করেনি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ক্রয় প্রস্তাব দুটি পুনঃ প্রক্রিয়া করতে বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাশেষে অর্থমন্ত্রী জানান, ক্রয় কমিটির বৈঠকে ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও চারটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ১২৫০ বর্গফুটের একটি ২০তলা ভবন এবং একটি ১৬তলা ভবনে ১৯৬টি ইউনিটের পর্দা সরবরাহ এবং স্থাপনের ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪৫ টাকা। পর্দা সরবরাহ এবং স্থাপনের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে কারিগরিভাবে একটি রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান ইউরোশিয়া ফেল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ঢাকা এর কাছ থেকে পর্দা ক্রয় ও স্থাপন কাজের সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। তবে দাম বেশি হওয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল করেছে কমিটি।
সভায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পের আওতায় ট্যাবলেট ফর ক্যাপি (কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউইং) ফর মেইন সেন্সাস, ক্রয়ের প্রস্তাবও ফেরত দিয়েছে কমিটি। আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর মাঠ পর্যায়ে জনশুমারির তথ্য সংগ্রহের জন্য জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট কেনার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ফেয়ার ইলেকট্রনিকস লিমিটেড ৫৪৮ কোটি ৭৩ লাখ ১৭ হাজার ৭০ টাকা উল্লেখ করে। দরপত্রে অংশগ্রহণকারী অপর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৪০২ কোটি ৪৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯০ টাকা উল্লেখ করে। যা সুপারিশকৃত দরদাতার চেয়ে ১৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৮০ টাকা কম। তবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি প্রিলিমিনারি এবং টেকনিকাল ইভ্যালুয়েশনের শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণ দেখিয়ে ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজকে নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করে। ক্রয় কমিটি গতকাল দরপত্রটি বাতিল করেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবটি বাতিল করে পুনঃ দরপত্রের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্রয় কমিটির বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক তিন পার্বত্য জেলার জন্য ১০০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ৪০ হাজার সোলার হোম সিস্টেম ও ৩২০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ২ হাজার ৫০০ সোলার কমিউনিটি সিস্টেম সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ‘বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড’-এর কাছ থেকে ২০৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রয় কমিটির আগে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত অন্য প্রস্তাবের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক ২০২২ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ৮ম ও ৯ম শ্রেণি, এসএসসি ভোকেশনাল, ইবতেদায়ি (৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি), দাখিল (৮ম ও ৯ম শ্রেণি) এবং দাখিল ভোকেশনাল স্তরের ১ কোটি ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ৯৭১ কপি বই ছয়টি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ৫৯ কোটি ৩৬ লাখ ৮১ হাজার ৮৪৪ টাকায় মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কাতার থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে দ্বিতীয় লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার ১১৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অপর এক প্রস্তাবে সৌদি আরব থেকে তৃতীয় লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১১৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বিদ্যুত্ বিভাগের অধীন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লি. (পিজিসিবি) কর্তৃক চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় নির্মাণাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও বিদ্যুেকন্দ্রের পাওয়ার ইভাকুয়েশনের জন্য মাতারবাড়ী-বাঁশখালী-মদুনাঘাট ৪০০ কোভি ট্রান্সমিশন লাইন প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বাতিলের নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
