আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার চায় সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সততা ও নিরপেক্ষতা। এজন্য সরকারি কর্মকর্তা বা প্রশাসকদের সঙ্গে রাজনীতিকদের একটা সুসম্পর্ক থাকতে হবে। রাজনীতিকরা সিদ্ধান্ত দেবেন, আর তা বাস্তবায়ন করবেন সরকারি কর্মকর্তারা।
গতকাল বুধবার সচিবালয় চত্বরে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনপ্রণেতারা আইন প্রণয়ন করবেন। পলিসি নির্ধারণ করবেন রাজনীতিকরা, সেটা বাস্তবায়ন করবেন সরকারি কর্মকর্তারা। এখানে সংঘাতের কোনো অবস্থা মোটেই কাম্য নয়। প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিরোধ প্রত্যাশিত নয়। যার যার অবস্থানে তার তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারোর পক্ষ নিয়ে তোয়াজ-তোষণ করবেন, এটা আমরা চাই না। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সচিবালয়ে একটা স্বস্তির পরিবেশ বজায় রয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগের বাংলাদেশকে দেখেছি, ১৫ আগস্টের পরের ছবিও দেখেছি। যাদের দেখতাম নব্য আওয়ামী লীগার সেজে মুজিবকোট পরত, ১৫ আগস্টের পর মুজিবকোট লুকানোর দৃশ্যপটও ভুলিনি। বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাকের চোখের জলের কথা জাতি এখনো ভুলে যায়নি। তাই অতি আপনজন সাজার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমার ভয় হয় যখন দেখি সচিবালয়ের আশপাশে বিলবোর্ড, পোস্টার আর ব্যানারে আকাশ পর্যন্ত ঢেকে যায়। আজ বাংলাদেশের যত্রতত্র অনেকেই বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তুলেছে। যদি হঠাত্ চোখের পলকে কোনো অঘটন ঘটে যায়, তখন কী এসব ম্যুরাল রাখবেন। যারা করেছেন তারাই ভেঙে ফেলবেন। এই দৃশ্যপট অনেক দেখেছি।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ইতিহাস নিয়ে কানামাছি খেলা করেছে বিএনপি
এদিকে গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক রূপ দিতে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে বিএনপি। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত না থাকলে খুনিদের এত বড় দুঃসাহস কখনো হতো না। ইতিহাস নিয়ে কানামাছি খেলা করেছে বিএনপি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশের খুনের রাজনীতির জনক হচ্ছে বিএনপি। সাম্প্রদায়িক শক্তির একমাত্র নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হচ্ছে বিএনপি। তিনি বিএনপির কাছে জানতে চান আর কতদিন ইতিহাসের ফুটনোটকে ইতিহাসের নায়ক বলবেন।
আইন বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও আইন বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজি নজিবুল্লাহ হিরু।
