ওষুধের উত্পাদন ও সরবরাহ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ০০:৫১

অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম হলো, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ক্রেতার স্বার্থ রক্ষা করা অনেক বেশি জরুরি। দেড় বছর ধরে দেশ করোনা মহামারির কবলে। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এছাড়া অন্যান্য রোগ তো আছেই। হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ। স্বভাবতই বেড়েছে ওষুধের চাহিদা। এর সুযোগ নিচ্ছেন অনেক ওষুধ বিক্রেতা। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে, দেড় বছরে কোনো ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি। ওষুধ কোম্পানিগুলোও বলছে একই কথা। তাহলে বিক্রেতারা কেন ওষুধের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছেন? ওষুধ কোনো বিলাসী ভোগ্যপণ্য নয়। এর ওপর মানুষের জীবন-মরণ নির্ভর করে। করোনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। এরপরও সেসব ওষুধ অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু দেশে উত্পাদিত ওষুধ নয়, অভিযোগ আছে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত করোনার অতি জরুরি ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে কয়েকগুণ দামে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, মানুষের জীবন যখন বিপন্ন, তখনো ওষুধ নিয়ে কিছু লোকের বাণিজ্যিক মনোবৃত্তি বন্ধ হয়নি। তারা হিসাব করছে লাভের অঙ্ক! চিকিত্সা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। সরকারের দায়িত্ব জনগণের চিকিত্সা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা নিরসনে উদ্যোগী হওয়া। এ সময় যেসব ওষুধের চাহিদা বেশি, সেগুলোর উত্পাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়ে বাজারে ওষুধের সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। দেশে ওষুধশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। চাহিদার সিংহভাগ মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে দেশে উত্পাদিত ওষুধ। এ খাতের প্রসার ঘটলে সার্বিকভাবে লাভবান হবে দেশের অর্থনীতি। সেজন্য ওষুধশিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে—এটাই আমরা চাই। তবে ওষুধের মান ও অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা রেখেই যা কিছু করার তা করতে হবে। এ লক্ষ্যে ওষুধের বাজার নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সৈয়দ আশিকুজ্জামান আশিক

গবেষণা সহকারী, সিআরআইডি, ঢাকা