করোনাতেও আয় বেড়েছে, মাঠের হাহাকার

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২১, ২১:৫৭

দুপুর গড়াতেই নেমেছিল বৃষ্টি। প্রকৃতির মতো বিষণ্নতা অবশ্য পাঁচ তারকা হোটেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বার্ষিক সাধারণ সভাকে (এজিএম) গ্রাস করেনি। গতকাল বেশ নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে বিসিবির এজিএম। ১২০ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন সভায়। বড় ধরনের কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি বিসিবির কর্তাদের।

বরং বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন, কাউন্সিলরদের কাছ থেকে প্রশংসাই পেয়েছে বোর্ড। যার প্রভাব দেখা গেল সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চেও। জেলা, বিভাগের কাউন্সিলরদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বোর্ড সভাপতি। বিসিবির চেনা মুখ পরিচালকদের মধ্যে শুধু আকরাম খান শেষ মুহূর্তে এসে মঞ্চে যুক্ত হন।

গতকাল এজিএমে অর্থকড়িসহ সব ধরনের হিসাব-নিরীক্ষা, আয়-ব্যয়ের হিসাব নাকি বিনা বাধায় অনুমোদন দিয়েছেন বিসিবির মোটা অঙ্কের উপহার নিয়ে ফিরে যাওয়া কাউন্সিলররা।

কাউন্সিলরদের সামনে সফলতা হিসেবে আয় বৃদ্ধি, যুব বিশ্বকাপ জয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ভালোভাবে উদ্যাপন, পাইপলাইনে ক্রিকেটার বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেছে বিসিবি। ব্যর্থতার খতিয়ানে পাপন করোনার প্রভাবকেই মূল নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নব গঠিত যুব দলকে তৈরি করা যায়নি, বিশ্বকাপজয়ী আকবর আলীদের নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি।

অচিরেই দুটি জাতীয় দল গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিসিবি। তবে পাপনের কণ্ঠে হাহাকার ঝরেছে, মাঠের সংকট নিয়ে। স্টেডিয়াম নয়, ক্রিকেটের প্রসারে মাঠ বাড়াতে চান তিনি। এজন্য জমি কিনতেও প্রস্তুত বিসিবি। অতীতের মতোই আঞ্চলিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেন বিসিবি সভাপতি।

আয় বেড়েছে বিসিবির

করোনার প্রভাব বিসিবির কোষাগারে খুব একটা দেখা যায়নি। অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মতো বিসিবি কর্মী ছাটাই, বেতন কর্তনের পথে হাঁটেনি। গতকাল পাপন বলেছেন, স্পন্সর খাত থেকে করোনার মধ্যে অতীতের তুলনায় আয় বেড়েছে বিসিবির।

তিনি জানান, ২০১২-১৮ অর্থবছরে আমাদের স্পন্সর থেকে আয় ছিল ৩৩ মিলিয়ন ডলার। করোনার মধ্যে গত তিন বছরেই কিন্তু ২৯ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।

একসঙ্গে দুই জাতীয় দল

সম্প্রতি ভারত, ইংল্যান্ড দুটি জাতীয় দল গঠনের এবং একসঙ্গে খেলার নজির দেখিয়েছে। বিসিবি সভাপতির বিশ্বাস, খুব শিগগিরই বাংলাদেশ এ পথে হাঁটবে। পাইপলাইনে ক্রিকেটারদের উপস্থিতি আশাবাদী করছে পাপনকে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দুইটা জাতীয় দল একসঙ্গে খেলবে এমন সময়ের বেশি দেরি নাই আমার ধারণা। নভেম্বরে পাকিস্তান আসার কথা আমাদের দেশে, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড সিরিজও আছে। সুতরাং হতেই পারে।’

মাঠ সংকট কাটানোর উদ্যোগ

পাপনের মতে, আঞ্চলিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করা যাচ্ছে না মাঠের অভাবে। মাঠ সংকটই ক্রিকেটের চর্চার পথে বড় বাধা। তাই স্টেডিয়াম নয়, জমি-মাঠ কেনার লক্ষ্য স্থির করেছে বিসিবি। গতকাল বোর্ড সভাপতি বলেছেন, ‘স্টেডিয়াম নয়, আমরা ক্রিকেট মাঠ কিনতে চাই। যেখানেই পাব, ক্রিকেট মাঠ কিনব। স্টেডিয়াম রক্ষণাবেক্ষণ আর পরিচর্যা ব্যয়বহুল। এজন্য আমরা ক্রিকেট মাঠ কিনতে চাই। যেখানে ক্রিকেটটা নিয়মিত চলবে।’