ভেনিজুয়েলার জন্য পাঠানো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ত্রাণবাহী লড়ি কলম্বিয়ার সীমান্ত শহর কুকুটা পৌঁছেছে। লড়িগুলো কলম্বিয়া ও ভেনিজুয়েলার সংযোগকারী তিয়েনদিতাস সেতুর কাছে রাখা হয়েছে। সেতুটির অপর প্রান্তে ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী অবস্থান করছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরো এ ত্রাণসামগ্রী প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কলম্বিয়ার ভেনিজুয়েলা সীমান্তবর্তী শহর কুকুতায় প্রথম ধাপের মার্কিন ত্রাণ পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে এখনও ভেনিজুয়েলায় প্রবেশমুখী তিয়েনদিতাস সেতু সেনাবাহিনী বন্ধ করে রাখায় সেখানেই আটকে আছে ত্রাণবাহী লড়িগুলো।
নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনিজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থিত গুইডো ঘোষণা দেন, ভেনিজুয়েলার মানুষের সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক ‘ত্রাণ সহযোগীদের’ নেটওয়ার্ক বানাবেন। তার অনুরোধে ভেনিজুয়েলার জন্য ত্রাণ পাঠানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলার এক ক্যাথলিক সংস্থা রয়টার্সের কাছে দাবি করেছে, কলম্বিয়া-কানাডা আর জার্মানির বিভিন্ন কোম্পানি ভেনিজুয়েলার মানুষ সেগুলোর থেকেও ত্রাণ আসছে। তবে ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
ত্রাণবাহী লড়িগুলো এখনও সীমান্তের বাইরে আটকে আছে। বৃহস্পতিবার পৌঁছানো ওই লড়িগুলোতে খাবার ও ওষুধ রয়েছে। কলম্বিয়ার পুলিশ মোটরসাইকেলে করে সেগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে ভেনিজুয়েলা পর্যন্ত নিয়ে যায়। তবে সীমান্ত থেকে ত্রাণগুলো কীভাবে ভেনিজুয়েলার মানুষের কাছে পৌঁছাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।
এর আগেই ওই সেতুর সামনে কার্গো কন্টেইনার দিয়ে পথ আটকে রেখেছে সেনাবাহিনী। এটাই কলম্বিয়ার কুকুতা ও ভেনিজুয়েলার উরেনা শহরের সংযোগপথ। নিকোলাস মাদুরো বারবারই ত্রাণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাকে ‘সম্মানহানি’র প্রচেষ্টা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ভেনিজুয়েলার মানুষ ভিক্ষুক নয়। এ ছাড়া এ পথ খুলে দিলে মার্কিন সোনাবাহিনী তাকে উত্খাত করার চেষ্টা করবে বলেও দাবি করেন তিনি। মাদুরো বলেন, ‘কেউ প্রবেশ করবে না, কেউই আগ্রাসন চালাতে পারবে না।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভেনিজুয়েলাকে সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদুরা সরকারকে অবশ্যই না খেয়ে থাকা মানুষের কথা ভাবতে হবে। ভেনিজুয়েলার বেশ কয়েকজন নেতাও ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
