ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চলতি (২০২১-২২) অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৮০৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদায়ি (২০২০-২০২১) অর্থবছরের ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। বাজেটটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
নতুন বাজটে করোনা মহামারি; শিক্ষাবৃত্তি; শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়া; নিম্ন আয়ের জনপদ ও বস্তিবাসীর নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ট্যাক্সের পরিধি বাড়াতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। গত ১২ জুলাই ডিএনসিসির দ্বিতীয় পরিষদের সপ্তম করপোরেশন সভায় এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত বাজেটে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ৯৬১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অন্যান্য আয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ১২ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৯ কোটি ১০ লাখ টাকা।
সরকারি বিশেষ অনুদান থেকে আয় ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা, যা গত বছরও ছিল ৫০ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে এসে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চারটি খাত থেকে মোট আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৬৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ১২৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে এসে দাঁড়িয়েছে ৮৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
রাজস্ব ব্যয় :বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ৬১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে এসে দাঁড়িয়েছে ৫২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি টাকা।
উন্নয়ন ব্যয় :উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে নিজস্ব উত্স ও সরকারি অনুদান থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬৭ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ৬৪৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে এসে দাঁড়ায় ৪৮৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সরকারি বা বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।
ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে এই বাজেট বাস্তবায়ন খুবই চ্যালেঞ্জিং। সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অর্থের প্রয়োজন। অর্থ না থাকলে জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে না। সিটি করপোরেশনকে সনাতনী পদ্ধতি থেকে একটি আধুনিক পদ্ধতিতে নিয়ে যেতে হবে।
মেয়র বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ঘরে বসে শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ডিএনসিসি শিক্ষাবৃত্তি তহবিল গঠন করবে। সেখান থেকে অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে।
