মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন আবেদনের শুনানি দুই দিনের মধ্যে করার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির দিন ধার্য করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেওয়া আদেশ কেন বাতিল করা হবে না—তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের দ্বৈত বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আদেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পহেলা সেপ্টেম্বর রুলের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, জামিন আবেদনের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত রীতিনীতির বাইরে গিয়ে আদেশ দিয়েছে। ২১ দিন পর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা মানে জামিন আবেদনটি খারিজ করার সমতুল্য।
গত ৪ আগস্ট রাতে বনানীর ১২ নম্বর রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল মাদকসহ পরীমনিকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তিন দফায় সাত দিন পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট পরীমনিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে জামিন চাইলে তা খারিজ করে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। পরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে ঐ আবেদন শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে আদালত। পরে তার আইনজীবী মজিবুর রহমান জামিন শুনানি এগিয়ে আনার আবেদন করেন। কিন্তু তাতে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন ঐ আইনজীবী।
ঐ আবেদনের শুনানিতে আইনজীবী মজিবুর বলেন, পরীমনিকে গ্রেফতার ও এজাহার দায়েরের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এরপর তিনি এজাহার পড়ে শোনানোর পাশাপাশি পরীমনির বাসা থেকে কী কী জব্দ করা হয়েছে তার তালিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাদক মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুরের আবেদন করছি। আদালত বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী মহানগর দায়রা জজ আদালত ও এই আদালতের একই এক্তিয়ার। ফলে প্রতিপক্ষকে না শুনে পূর্ণাঙ্গ কোনো আদেশ আমরা দিতে পারব না।
পরীমনির পক্ষে বিনা পয়সায় মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, পরীমনিকে গেফতার করার ২৬ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের করা হয়। আর রিমান্ডের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করেনি নিম্ন আদালত।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান বলেন, মহানগর দায়রা জজ আদালতের আদেশটি বেআইনি নয়। মামলার অন্যান্য রেকর্ড না থাকার কারণে উনি জামিন শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রেখেছেন। আদালত বলে, উনি (মহানগর দায়রা জজ আদালত) না শুনলে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত আছে, তারা শুনবে। কিন্তু এত লম্বা তারিখ দেওয়ার কী আছে? এর পরই হাইকোর্ট জামিন আবেদন দ্রুত শুনানির প্রশ্নে রুল জারি করে।
